চলমান ডেস্ক : পটুয়াখালীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার (২১ মার্চ) বেলা ১১ টা ৫৫ মিনিটে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নেরও ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরআগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পটুয়াখালীর পায়রায় পৌঁছান। এসময় তাকে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পায়রায় অবতরণে করে প্রধানমন্ত্রী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং এর নাম ফলক উন্মোচন করেন। এসময় এক হাজার ৩২০টি পায়রাও ওড়ানো হয়।
করোনা মহামারির মধ্যে টুঙ্গিপাড়ার বাইরে এই প্রথম দেশের অন্যত্র সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে আসছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। ধানখালীর পায়রায় সর্বাধুনিক আলট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন তিনি। পাশাপাশি এরই মধ্য দিয়ে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণাও দেন শেখ হাসিনা।
পটুয়াখালীর পায়রায় দেশের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মুজিববর্ষে দেশের প্রত্যেকটি ঘর আলোকিত করেছে সরকার, এটাই সব থেকে বড় সাফল্য।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ২১ বছর এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা সবসময় দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু বাংলাদেশ সবসময় পিছিয়ে যাচ্ছিল। (৯৬ সালের আগে) ২১টা বছর এবং এরপরে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কোনও আন্তরিকতাই তাদের ছিল না; এটাই হচ্ছে দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে ২০২২ সাল এই দীর্ঘ সময় সরকারে থাকতে পেরেছি সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি। ভোট দিয়ে আমাদের তারা নির্বাচিত করেছেন। এই ১৩ বছর একটানা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অব্যাহত রয়েছে, এরমধ্যে ঝড়-ঝঞ্ঝা অনেক এসেছে, বাধা অনেক এসেছে, কিন্তু সেগুলো আমরা অতিক্রম করেছি। এগুলো অতিক্রম করেও আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি বলেই আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে।
একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতির পিতা একে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন, আজকে সেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওয়াদা করেছিলাম প্রতিটি মানুষের ঘর আলোকিত করবো, প্রতিটি মানুষ আলোকিত হবে, সেই আলোর পথে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। আজকের দিনটা সেই আলোর পথে যাত্রা শুরু যে সফল হয়েছে সেই দিন।’ এজন্য সবাইকে তিনি সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম । তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়া শুধু ভারতে এ ধরনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।
পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কম্পানি (বিসিপিসিএল)। এ কম্পানিতে দেশের রাষ্ট্রীয় কম্পানি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)-এর সমান অংশীদারে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
বিসিপিসিএল পায়রাতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এটি দেশের সব থেকে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি করে ইউনিট রয়েছে। ২০২০ সালে জুন নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে, একই বছরের আগস্টে উৎপাদনে আসে দ্বিতীয় ইউনিট।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন