উত্তর পরগণা, ভারত: বাংলাদেশে অর্থপাচার মামলার পলাতক আসামি পিকে হালদারের গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধার সম্পত্তির সন্ধানে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। খবর ডয়চে ভেলের।
শুক্রবার (১৩ মে) ভোরে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার পোলেরহাটে দুইটি বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় সুকুমার মৃধার বেআইনি সম্পত্তির খোঁজে অভিযান শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কর্মকর্তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এ তল্লাশি চালান বলে জানা গেছে৷ এ সময় তাদের সাথে প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। শুক্রবার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল৷
জানা গেছে, মৃধার একটি বাড়ি থেকে প্রচুর অর্থ পেয়েছে ইডি। তবে এ টাকা কোথা থেকে এসেছে, সেই বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারে নি।
ইডি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষে জব্দকৃত অর্থের উৎস সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারবেন। এর সাথে বাংলাদেশের অর্থ পাচার মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) জড়িত কিনা, তা-ও তদন্ত রিপোর্ট এলে জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ দিকে, সুকুমার মৃধা বাংলাদেশে বসবাস করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তার অনেক মাছের ভেড়ি আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ইডি। সুকুমার মৃধার অবৈধ সম্পদ বা অর্থ পাচারের বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কোনে তথ্য দিয়েছিল কিনা, সে বিষয়টি ইডি সূত্র নিশ্চিত করে নি।
দুদক যা বলছে: এ অভিযানের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমিও সংবাদ মাধ্যম থেকে এ বিষয়ে খবর পেয়েছি। বিস্তারিত কোন তথ্য এখনো আমার জানা নেই।’
সুকুমার মৃধা বা পিকে হালদারের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ সম্পত্তির বিষয়ে দুদক বা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর পক্ষ থেকে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল কিনা, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি। তবে ‘মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসেসমেন্টের’ মাধ্যমে সহায়তা চাওয়ার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।
পিকে হালদার বা সুকুমার মৃধা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অর্থ পাচার করলে সেটি ফেরত আনা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি। দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘ভারতের কর্তৃপক্ষ যদি নিশ্চিত করে, এ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। তাহলে আদালতের মাধ্যমে আমরা সেটা জব্দ করতে পারবে।’
কে এ সুকুমার মৃধা: ৪২৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ছয় হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেনের মামলায় পলাতক পিকে হালদারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে। ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের’ এ মামলায় গত বছরের জানুয়ারিতে পিকে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করে দুদক৷ সে সময় বাংলাদেশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য গণ মাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘পিকে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুকুমার ও অনিন্দতা মৃধা। পিকে হালদারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্বাবধানও করেন সুকুমার মৃধা।’
দুদকের সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘পিকে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে ফের পিকে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।’
দুদক সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ ও তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে, যা পিকে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, সুকুমার মৃধা পিকে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন। পিকে হালদার ও তার মেয়ে আদালতের কাছে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন