বর্তমান সময়ে অনেকেই ওজন নিয়ে চিন্তায় ভোগেন। বিশেষ করে পেট ও মুখের মেদ বেড়ে গেলে শুধু যে সৌন্দর্য নষ্ট হয় তা-ই নয়, এর প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যের ওপরও। অতিরিক্ত মেদ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্য সচেতন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সঠিক খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
মানুষের শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরি প্রয়োজন। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে পেটে মেদ জমতে শুরু করে। অন্যদিকে, শরীরচর্চা বা শারীরিক কর্মকাণ্ড কম হলে এ মেদ আরও দ্রুত বাড়ে। তবে মেদ কমাতে কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়, আবার অতিরিক্ত শরীরচর্চাও সবসময় সমাধান নয়। আগে বুঝতে হবে শরীরের জন্য কী, কতটুকু প্রয়োজন।
পেট ও মুখের মেদ কমাতে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

খাবারের হিসাব রাখুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাবারের হিসাব রাখা। প্রতিদিন কী পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন এবং তার মধ্যে কত ক্যালোরি রয়েছে, সেটা জানা প্রয়োজন। অনেক সময় অজান্তেই আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি খেয়ে ফেলি, যা ধীরে ধীরে শরীরে চর্বি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের দৈনিক ক্যালোরি চাহিদা বয়স, লিঙ্গ ও কাজের ধরণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই যেকোনো ডায়েট শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা উচিত।
হাঁটার অভ্যাস করুন
নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে সবার জন্য জিম বা ভারী ব্যায়াম সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে হাঁটা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এখন অনেকেই স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করেন, যা স্টেপ কাউন্ট জানিয়ে দেয়। পেটের মেদ কমাতে প্রতিদিন ১০–১৫ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য স্থির করতে পারেন। এ অভ্যাস শুধু মেদ কমায় না, শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করে।
চিনি ও শর্করা কমান

অতিরিক্ত শর্করা শরীরে প্রবেশ করলে ইনসুলিনের মাত্রায় প্রভাব পড়ে। এর ফলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে। তাই মেদ কমাতে চাইলে অবিলম্বে চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমিয়ে আনতে হবে। সফট ড্রিঙ্ক, মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি বা অতিরিক্ত মিষ্টি চা-কফি পরিহার করুন। পরিবর্তে ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খান। এগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, আবার বাড়তি ক্যালোরি জমতে দেয় না।
অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে থাকুন
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল, সোডা জাতীয় পানীয় ও ফাস্টফুড অন্যতম বাধা। এসব খাবারে থাকে প্রচুর ক্যালোরি, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি, যা খুব দ্রুত শরীরে মেদ জমায়। বিশেষ করে রাস্তায় ভাজা-পোড়া খাবার বা রেস্তোরার তেলযুক্ত খাবার নিয়মিত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ওজন কমাতে চাইলে এসব খাবার থেকে দূরে থাকা জরুরি। বাড়িতে রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ইয়োগা ও শরীরচর্চা
পেট ও মুখের মেদ কমাতে যোগব্যায়াম (ইয়োগা) অত্যন্ত কার্যকর। ইয়োগার মাধ্যমে শরীর শুধু নমনীয় হয় না, বরং চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট ইয়োগা করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ভালো থাকে এবং মানসিক চাপও কমে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয়, যা চর্বি জমায়। তাই ইয়োগা মানসিক চাপ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এর পাশাপাশি সাইক্লিং, দৌড়ানো বা হালকা ব্যায়ামও মেদ কমানোর জন্য কার্যকর উপায়।
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন

শুধু ডায়েট বা ব্যায়াম নয়, মেদ কমাতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রাত জাগা বা অনিয়মিত ঘুম শরীরের বিপাকক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে মেদ কমতে চায় না। একইভাবে পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
পেট ও মুখের মেদ কমানো একদিনের কাজ নয়। ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে জীবনযাপন করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম আর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকলেই ধীরে ধীরে মেদ কমবে। শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন