শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ফের দেশের মানুষের ভোট কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ

বুধবার, জানুয়ারী ১২, ২০২২

প্রিন্ট করুন
Untitled design 82 1

চট্টগ্রাম: দেশের মানুষের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ‘ফের এ দেশের মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। বিচার বিভাগকে কুক্ষীগত করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র করছে। গণ মাধ্যমের গলা টিপে ধরে, সরকারের কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র করছে। আগামী নির্বাচনে ভোটচুরির ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সব ভোট চোররা আজ এক জায়গায় যুক্ত হয়েছে্  

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশে কর্ণফুলী সিডিএ আবাসিক মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আমির খসরু এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ একতাবদ্ধ হয়েছে। আন্দোলনের যে জোয়ার শুরু হয়েছে, আগামী দিনে তারা সেই ষড়যন্ত্রকারীদের ধ্বংস করে দেবে। বাংলাদেশের মানুষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যারা যারা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য আমাদের সভা সমাবেশে বাধা দিচ্ছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ যে উত্তাল আন্দোলন শুরু হয়েছে, কোন শক্তি একে রুখতে পারবে না। যারা বাংলাদেশের আত্মাকে বিক্রি করে দিয়েছে, তাদের মূল্য দিতে হবে আগামী দিনে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘শুনেছি, সরকার নাকি বিএনপি নেতাকর্মীদের তালিকা করছে। একটা পরামর্শ দিই, আপনারা আওয়ামী লীগের যে গুটিকতক সমর্থক আছে, তাদের তালিকা করুন। আর বাকি সব বিএনপি। আওয়ামী লীগে এখন কোন রাজনীতিবিদ নেই। লুটপাটে যারা জড়িত, তারা ছাড়া আওয়ামী লীগে এখন আর কেউ নেই। বাংলাদেশে যে ভোটচুরি করে ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগ, মধ্যরাতের ভোটচুরির মাধ্যমে ও খালেদা জিয়াকে যে কারণে জেলে রাখা হয়েছে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে পরিস্কার হয়েছে যে, এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া। এ গুম, খুন, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে এটা বিশ্বব্যাপী দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে গেছে। আজ আমেরিকায় কংগ্রেস সিনেট সদস্যরা দুই দলের সদস্যরা এক সাথে বলছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন ও আমেরিকায় দ্বিকক্ষীয় মানবাধিকার গ্রুপগুলো পরিস্কারভাবে বলছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। পার্লামেন্টে তারা ভোটচুরি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছে। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে নামকরা পত্রিকাগুলো তারাও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে। বাংলাদেশে যে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আছে, তারা বলছে, বাংলাদেশে যা হচ্ছে এখানে একটি রেজিম ভোটচুরি করে জনগণের বাক স্বাধীনতা হরণ করে তারা ক্ষমতায় আছে।

খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্কারভাবে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই না, খালেদা জিয়াকে মুক্ত আমরা করব। কার কাছে মুক্তি চাইব? একটা অবৈধ, অনির্বাচিত, দুর্নীতিবাজ, দালাল সরকারের কাছে? খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব আন্দোলনের মাধ্যমে। ফের বলছি, এ অবৈধ সরকার, এ অনির্বাচিত সরকার তাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি আমরা চাইতে পারি না। আগে তাদের পতন ঘটাতে হবে। পতনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী। গুম-খুন, হত্যা, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিএনপির নেতারা জেলে পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে।’  

মহা সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সমুদ্রের পানিকে বালু দিয়ে রক্ষা করা যায় না, সমুদ্রের পানি বাধ ভেঙ্গে দেয়। আজ দক্ষিণ জেলা বিএনপি বাধ ভেঙ্গে দিয়েছে। যে পরিমাণ লোক সমাগম আজ হয়েছে, এটা একটা স্যাম্পল মাত্র। এখনো তো ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি। ফাঁদ দেখাব আগামী দিনে। চট্টগ্রামে দেখাব, চট্টগ্রাম বিভাগে দেখাব, বাংলাদেশে দেখাব। এসব ধানাইপানাই করে কোন লাভ হবে না। ১৪৪ ধারায় কোন কাজ হবে না। ১৪৪ ধারার দিন শেষ হয়ে গেছে। কথায় কথায় অনুমতি দিয়ে জনসভা করার দিনও শেষ হয়ে গেছে। আগামী দিনে এ বাধ ভাঙ্গা জোয়ার রুখার কারো কোন শক্তি নাই। পুরো বাংলাদেশ আজ ঐকব্যদ্ধ, একতাবদ্ধ। রাজনৈতিকভাবেও ঐক্যবদ্ধ, একতাবদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন জন্য নাকি সমাবেশ বন্ধ করতে হবে। ওমিক্রন নয়, আসল রোগ অন্য জায়গায়। রোগ হচ্ছে, সরকার পতনের দিন ঘনিয়ে এসেছে। ওমিক্রনের নাম দিয়ে ১৫-২০ দিন ঠেকাতে পারবেন, না হলে এক মাস ঠেকাতে পারবেন। পতন কিন্তু হবেই হবে।’

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবদলে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান ও আহবায়ক কমিটির সদস্য এসএম মামুন মিয়ার যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দিন মজুমদার, হারুনুর রশীদ।

আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল, সরওয়ার জামান নিজাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য এনামুল হক এনাম, মোশারফ হোসেন, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি আশরাফুল আলম লিংকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সাব্বির, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মো. শাহজান, সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহি, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম তালুকদার, ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল আলম শহীদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন, বাশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. লোকমান, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. উছমান।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন