বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপন ও যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া, এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপে সঙ্গে সমন্বিত এ উদ্যোগে সহযোগিতা করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশে ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (মিস্ট) সঙ্গে যৌথ বা দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও প্রফেসর ড. মাসুমা হাবিব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন।
এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রফেসর স্টিভেন ম্যাকগুইর, হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট সাইয়েদ নুহ, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্সস’র অ্যাসোসিয়েট ডিন (অ্যাডমিশন) প্রফেসর স্টিফেন লেকক, ফ্যাকাল্টি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস’র অ্যাসোসিয়েট ডিন (ইন্টারন্যাশনালাইজেশন) ড. লুসিল কার্টিস, এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর নিল আপটন, চিফ অপারেটিং অফিসার বেঞ্জামিন বিলভারস্টোন এবং জাহিরুল ইসলাম।
বৈঠকে ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া এবং এমএইচ গ্লোবাল প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান বিধি মোতাবেক সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সভায় মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। তথ্যপ্রযুক্তির উদীয়মান সেক্টর—যেমন বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি—বিষয়ে যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। আইন ও নীতিমালার আলোকে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মাসুমা হাবিব বলেন, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক শিক্ষা ও গবেষণায় যুক্ত হতে পারবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর স্টিভেন ম্যাকগুইর বলেন, আমরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক মানদণ্ড বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস স্থাপন এবং যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে আমরা খুবই আশাবাদী।
বৈঠকে উচ্চ টিউশন ফি, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স, শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান এবং ক্রেডিট আওয়ারের অসামঞ্জস্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ইউজিসির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক জেসমিন পারভীন।
চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন