শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

সোমবার, মে ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক : বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। দেশজুড়ে কয়েক লাখ মানুষের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে সোমবার তার পদত্যাগের ঘোষণা আসে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবামাধ্যম এএনআই।

গত এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের জেরে সম্প্রতি দেশটিতে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে নিজেকে ‘অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া’ ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করলেও নিজ দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বিক্ষোভকারীদের জোরালো দাবির মুখে সোমবার তার পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
ডেইলি মিরর জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ মে) প্রেসিডেন্ট গোটবায়া রাজাপাক্ষে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেন। কয়েকদিন পর এটি আসে। এখন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, রাজাপাক্ষে একটি সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সংসদে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির বিরোধী দল সামগী জনা বালাওয়েগয়া (এসজেবি) নিশ্চিত করেছে তাদের দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করবেন না। সোমবার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষের সমর্থকরা পদত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়ে তার সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিসের সামনে বিক্ষোভ করে।
বিদেশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলায় শ্রীলঙ্কা এখন সরকারিভাবে দেউলিয়া। বিদেশিদের কাছে দেশটির আছে ৫১০০ কোটি ডলারের ঋণ। এই ঋণ শোধ দেয়ার সামর্থ নেই তাদের। ফলে সরকারিভাবে বিদেশি দাতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে দেউলিয়াত্বের কথা। আর্থিক সঙ্কট অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে আঁকড়ে ধরেছে দেশটিকে। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। যাওবা নিত্যপণ্য পাওয়া যায়, তার দাম আকাশচুম্বী। সরকার অত্যাবশ্যক পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হাত দিয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভে। তাও প্রায় শেষের পথে। 

এ অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সাধারণ মানুষের। তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছেন সরকার দলীয় কিছু সদস্য, কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা, চিকিৎসকরা আর মন্ত্রীসভা থেকে একযোগে পদত্যাগ করেন ২৪ জন। জোর করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন গোটাবাইয়া ও মাহিন্দ রাজাপাকসে ভ্রাতৃদ্বয়। কিন্তু মানুষের পেটে খাবার না থাকলে, অসুখে চিকিৎসা না পেলে যা হয়, তাই হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে কারফিউয়ের মধ্যেও রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তার ওপর চালানো হয়েছে হামলা। এ সময়েই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন