শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

বিজয়ের ৫০ বছরে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২১

প্রিন্ট করুন
Victory 2 min

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ১৬ ডিসেম্বর। ঠিক ৪৯ বছর আগের এই দিনে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল জাতীয় স্বাধীনতা; বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছিল একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ড—বাংলাদেশ।

আজ আমরা পালন করছি বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী। বিজয় বাঙালির বীরত্বের ইতিহাস। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে এ দিনে আমরা পেয়েছি বিজয়। সেই অবিস্মরণীয় একাত্তর থেকে আজ বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১। দীর্ঘ এই ৫০ বছরে বাংলাদেশ  তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উপনীত  হয়েছে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায়। সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল এখন বাংলাদেশে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন দেখছি আমরা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির ওপর হামলে পড়লে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছিল ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র ফেলে মাথা নিচু করে আত্মসমর্পণ করেছিল বিজয়ী বীর বাঙালির সামনে। স্বাক্ষর করেছিল পরাজয়ের সনদে। সেই দিন থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আজ সেই মহান বিজয় দিবস। আজ লাল-সবুজের উৎসবের দিন। এবার বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করছি আমরা।

সংগত কারণেই আজ ৫০ বছর পেরিয়ে এসে আমাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির দিকেও দৃষ্টিপাত করা দরকার। ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত এই বাংলাদেশে যদি সর্বক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হয়ে উঠতে না পারে, তাহলে সব আনন্দই ম্লান হয়ে যাবে। বিশেষ করে ব্যক্তি তার মনের কথা বাধাহীনভাবে বলতে পারলো না,লিখতে পারলো না আবার অধিকারের প্রশ্নে আওয়াজ তুলতে পারলো না তাহলে সেই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকার মতোই। বঙ্গবন্ধু বলেছেন,“এই স্বাধীনতা তখনি আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলার কৃষক-মজুর ও দুঃখী মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে ”।

কেমন এগুচ্ছে বাংলাদেশ

হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ‘বটমলেস বাস্কেট’-এর দেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে সক্ষমতার চমক দেখাচ্ছে বিশ্বকে। ৫০ বছর আগে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল গড়ে মাত্র প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার। এখন তা উন্নীত হয়েছে ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে। দেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০৩১ সালে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং আগামী ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে স্থান করে নেবে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার কোন উল্লেখযোগ্য মজুদ ছিল না। এখন তা ৪৮ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করে গেছে। বছরের পর বছর আমাদের রফতানি আয় দ্রুত বাড়ছে। সেইসঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে রেমিটেন্স আয়। এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ছিল ছনের ছাউনি দেয়া ঘর। এখন তা আর চোখে পড়ে না। শিক্ষার প্রসার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হারের দিক থেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতাকেও টপকে গেছে বাংলাদেশ। নারীর ক্ষমতায়ন বিবেচনায় বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের ওপরে আমাদের অবস্থান। গত ১৩ বছর ধরে এদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ থেকে ৮ শতাংশ হারে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩৩ সালে তা ৮৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। তখন বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৫তম। সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে অনেকটা স্থবির, বাংলাদেশ সেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। এরই সঙ্গে ক্ষুধা সূচকে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ।

দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীলগ্নে এই সূর্য তাই নতুন রূপে নতুন ‘আলোকের ঝর্ণাধারা’র বার্তা নিয়ে আসবে বাঙালির জীবনে।এমনটাই প্রত্যাশা লাল সবুজের বাসিন্দাদের।

আরএইচ/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন