পাকিস্তানের আদিয়ালা জেলে আটক পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি)।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত এই সিদ্ধান্ত জানায়।
ইমরান খানের আইনজীবী ফয়সাল মালিক আদালতে যুক্তি দেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের সেই সব চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে যা অতীতে নওয়াজ শরিফের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, ইমরান খান বর্তমানে একজন বিচারাধীন বন্দি এবং নিজের পছন্দমতো চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আইনি অধিকার তার রয়েছে। এছাড়া আদিয়ালা জেলে চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন যে গত তিন বছর জেলের বাইরে না নেওয়া হলেও কেন হঠাৎ গভীর রাতে তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস)-এ নেওয়া হলো এবং কেন জেল কোড অনুযায়ী পরিবারকে আগে অবহিত করা হয়নি।
অন্যদিকে, বিশেষ প্রসিকিউটর জহির শাহ এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, ৯ মে’র জিএইচকিউ হামলা মামলায় ইমরান খান জামিনে থাকলেও অন্যান্য মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, তাই তাকে কেবল বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
প্রসিকিউটর আরও দাবি করেন, জেল প্রশাসন বা চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার এই বিশেষ আদালতের নেই। জেল কোড অনুযায়ী সরকারি চিকিৎসকদের মাধ্যমেই বন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে বেসরকারি চিকিৎসকের কোনো বিধান নেই।
এদিকে, পিমস হাসপাতালের একটি মেডিকেল রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে ইমরান খান ডান চোখের একটি রক্তনালী সংক্রান্ত সমস্যায় (সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন) ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।
জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে যে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি জেল বিধি মোতাবেক যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তবে ইমরান খানের বোন আলিমা খানম অভিযোগ করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রতিশ্রুত মেডিকেল রিপোর্টগুলো এখনো পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন