শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ভারত থেকে ৫২ হাজার টন গম নিয়ে জাহাজ এল চট্টগ্রাম বন্দরে

মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: ভারত থেকে ৫২ হাজার ৫০ টন সরকারি গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে শনিবার (২১ মে) এসেছে ‘এমভি ভি স্টার’ নামের আরো একটি জাহাজ। সরকারিভাবে আমদানিকৃত এসব গম উদ্ভিদ সংগনিরোধ সনদসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে খালাস করা হবে দুই দিন পর। এর আগে গত সপ্তাহেও ৫০ হাজার টন সরকারি গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে।

সরকারি এক লাখ টন গম নিয়ে আরো দুইটি জাহাজ আসবে আগামী মাসে। বেসরকারিভাবে আমদানি করতে পাইপলাইনে আছে আরো পাঁচ লাখ টন গম। অথচ ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে- এমন অজুহাতে গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া গমের বাজার।

চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি মোকাম খাতুনগঞ্জে সাত দিনের ব্যবধানে গমের দাম বেড়েছে মণে ২০০ টাকা। আর এর প্রভাবে বেড়ে যাচ্ছে আটা ও ময়দার দামও।

খাদ্য বিভাগ চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, ‘চলতি মাসেই এক লাখ দুই হাজার ৫০টন গম নিয়ে দুইটি জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে একটি জাহাজ ১৬ মে নোঙর করেছে। আরেকটি নোঙর করেছে রোববার (২২ মে)। গত সপ্তাহে আসা গমের নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এক লাখ টন গম নিয়ে আরো দুইটি জাহাজ আসবে অর্থ বছর শেষ হওয়ার আগে।’

গত ১৬ মে ৫০ হাজার টন গম নিয়ে ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বড় জাহাজ ‘ইমানুয়েল সি’। এ জাহাজ থেকে গম খালাস করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে গম আমদানি হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ টন। নতুন আসা জাহাজের গম যুক্ত হলে সংগ্রহ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন। এবার সরকারিভাবে গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রাও ছিল সাড়ে ছয় লাখ টন। পাইপলাইনে আছে আরো প্রায় দুই লাখ টন গম। চুক্তি অনুযায়ী, এসব গম আসলে কোন সংকট থাকবে না সরকারিভাবে।

চালের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য হচ্ছে গম। দেশে বছরে ৭৫ লাখ টন গমের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ টন গম উৎপাদন হয় দেশে। বাকিটা আমদানি করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দশ মাসে ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম দেশে এসেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘অর্থ বছরের প্রথম দশ মাসে পর্যাপ্ত গম আমদানি হয়েছে। ভারত রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিলেও সেটা খুব সাময়িক সময়ের জন্য। সরকারিভাবে গম আনতে কোন বাধা নেই ভারতের। বেসরকারি পর্যায়ে যারা চুক্তি করে ফেলেছেন, প্রয়োজনে তাদের বিষয়েও ভারতের সাথে কথা বলার সুযোগ রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এখন ডলারের দামটা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন