যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানে এক বিশেষ গোপন মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন বাহিনী।
‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল করে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এই রহস্যময় অস্ত্রের কারণে ভেনেজুয়েলার সেনারা তাদের রুশ ও চীনা প্রযুক্তির রকেটগুলো ব্যবহারই করতে পারেনি।
অভিযানের সময় ঠিক কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী যখন কারাকাসে প্রবেশ করে, তখন ভেনেজুয়েলার সেনারা রকেট ছোড়ার জন্য বাটনে চাপ দিলেও কোনো কিছুই কাজ করেনি। তিনি একে একটি পালসড এনার্জি ওয়েপন বা স্পন্দিত শক্তি অস্ত্র হিসেবে ইঙ্গিত করলেও এর কৌশলগত বিশদ প্রকাশ করতে রাজি হননি।
তিনি কেবল বলেন, এই অস্ত্রের প্রভাবে কারাকাসের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং শত্রুপক্ষের রাডার ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল।
মাদক কার্টেল দমনে মেক্সিকোতেও হামলার হুমকি
ভেনেজুয়েলার সফল অভিযানের পর এবার ড্রাগ কার্টেল বা মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে কেবল দক্ষিণ আমেরিকা নয়, প্রয়োজনে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতেও স্থল অভিযান চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন প্রশাসন এই কার্টেলগুলোর আস্তানা এবং যাতায়াতের রুট সম্পর্কে বিস্তারিত জানে এবং খুব শীঘ্রই তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রশান্ত মহাসাগরে একটি মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলার তথ্য নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, এই অভিযান কেবল শুরু। তিনি আরও জানান যে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে ইতিমধ্যে সব তেল সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই জাহাজগুলো বর্তমানে কোথায় আছে, তা নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা হয়েছে।
নোবেল পুরস্কার ও আর্কটিক চুক্তি নিয়ে মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি উপহার দিয়েছেন। ওভাল অফিসে রাখা সেই পুরস্কারটি কোথায় ঝোলানো যায়, তা নিয়ে বর্তমানে তিনি চিন্তাভাবনা করছেন। এ ছাড়া ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে এক চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর জমির মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসবে, যদিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষে ট্রাম্পের চিরচেনা রসিকতাও বাদ পড়েনি। আসন্ন সুপার বোলে পারফর্ম করতে যাওয়া শিল্পী ব্যাড বানি এবং গ্রিন ডে-কে ‘ভয়ানক পছন্দ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এবার তিনি খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে যাবেন না।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন