সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায় পরিচালনায় ঋণ প্রাপ্তি সহজ ও দ্রুত করবে ফিনটেক

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২১

প্রিন্ট করুন
Untitled design 32 1

ঢাকা: করোনা ভাইরাস উত্তর বাংলাদেশে আরো বেশি মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজকে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সেবার আওতায় আনার জন্য ফিনান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক) বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সোমবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) আয়োজিত একটি গোলটেবিলে বিশেষজ্ঞরা এ মতামত দেন।

বিআইসিএমের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টালিখাতা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইসিএমের পরিচালক (স্টাডিজ) ওয়াজিদ হাসান শাহ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবর্ণ বড়ুয়া।

প্রবন্ধে শাহাদাত খান উল্লেখ করেন, ঋণ প্রদানের জন্য মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজের যে ধরনের তথ্য দরকার, তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পায় না। ফলে তাদের ঋণ দিতে পারে না। মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরির মাধ্যমে এখন সহজেই তাদের ঋণ দেয়া সম্ভব।

ডিজিটাল বাংলাদেশে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট এখন সবার হাতের নাগালে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করছে। এতে তৈরি হয়েছে এক বিশাল এক তথ্যভাণ্ডার। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে ফিনটেকের মাধ্যমে সবাইকে ঋণের আওতায় আনা সম্ভব। ঋণের পরিমাণও নির্ধারণ করা যাবে। গ্রহীতার কাছে না গিয়েও ঋণের টাকা পাঠানো ও কিস্তির টাকা আদায় করা যাবে। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা খরচ ও ঝুঁকি কমবে।

মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে কমিউনিটি ভিত্তিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মাইক্রো ফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এমএ বাকী খলিলী বলেন, ‘ছোট ব্যবসায়ীদের লোন দরকার হয় ব্যবসায় শুরু করার জন্য নয়, বরং ব্যবসায় বৃদ্ধি করার জন্য। তবে লোন নেয়ার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হওয়ার সমস্যাটি প্রায় স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত রয়েই গিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য মাইক্রো এন্টারপ্রাইসরে ভূমিকাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিরুপণ মডেল তৈরি করে উচ্চ ঝুঁকি আলাদা করা ও লেনদেন খরচ কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।’

গোল টেবিল আলোচনায় উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহা ব্যবস্থাপক মেজবাউল হক বলেন, ‘ফিনটেক, ব্যাংক, এমএফআই, এন্টারপ্রাইজ সবাই মিলে ইকো-সিস্টেম তৈরি করতে হবে। কম খরচে সেবা দেয়ার জন্য ফিনটেকই হবে অন্যতম প্লাটফর্ম।’

অন্য দিকে, এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাজিম হাসান সাত্তার বলেন, ‘ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরিতে ফিনটেক আবশ্যক ও প্রান্তিক জনগন, যারা ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারে না, তাদের শেষ ভরসা এমএফআই।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের রিসার্চ ফেলো ফারহানা নার্গিস, ব্যাংক এশিয়ার এমএসএমই ও কৃষি ঋণ বিভাগের প্রধান সামিনুর রহমান, এসিআইয়ের ট্রেজারি প্রধান আবু হাসান জামান, ব্রাকের রিসার্চ ও ইনসাইটের প্রধান জুমানা আসরার, পিওপিআইয়ের পরিচালক মশিউর রহমান, উদ্দীপনের নির্বাহী পরিচালক বিদ্যুৎ কুমার বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাফিউদ্দিন আহমেদ, আমেরিকার লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহিম সিরাজ।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন