বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিজের বক্তব্যে ‘ফ্রান্সে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে- বলে দাবি করেছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার। যা ভালোভাবে নেননি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো।

এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বাবা এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু সোমবার সেই তলবের জবাবে নিজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সমনের উত্তর দেওয়ার জন্য নিজে না গিয়ে একজন ডেপুটিকে পাঠিয়েছিলেন কুশনার।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফরাসি মন্ত্রীদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেখা করার অনুমতি বন্ধ করে দেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো।

তবে এ নিয়ে বিতর্কের পর কিছুটা বরফ গলেছে বলে জানা যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশ দুটির প্রতিনিধিদের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী দিনে মুখোমুখি দেখা করতে সম্মত হয়েছেন এই দুইজন। এছাড়া ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ না করার কথাও জানিয়েছেন ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার।

তবে মঙ্গলবারের আলোচনা সম্পর্কে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

মঙ্গলবারের আলোচনা নিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দলের একজন সদস্য ফরাসি মিডিয়াকে জানিয়েছেন, ‘তাকে (ব্যারো) তলব করার কারণগুলো পুনরায় জানানো হয়েছে, ফ্রান্স তৃতীয় কোনও দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জাতীয় এবং জনসাধারণের বিষয়ে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারে না।’

রাষ্ট্রদূত বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন এবং আমাদের জাতীয় কোনো আলোচনায় হস্তক্ষেপ না করার জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন- জানান ওই সদস্য।

গত সপ্তাহে এই কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়, যখন ফ্রান্সে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী কোয়েন্টিন ডেরাঙ্কের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পোস্ট করে, যেখানে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে ফ্রান্সে ‘সহিংস বামপন্থী চরমপন্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

২৩ বছর বয়সি গণিতের শিক্ষার্থী ডেরাঙ্ক গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে মারা যান। যার দুইদিন আগে লিওঁতে মুখোশধারী একটি দলের হামলার শিকার হয় সে।

এই হামলার জন্য ফ্রান্সের মধ্য-ডানপন্থি সরকারের মন্ত্রীরা ‘অতি-বাম’ জঙ্গিদের দায়ী করেছেন।

এই ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের পোস্ট করা একটি মন্তব্য ফরাসি সরকারকে ক্ষুব্ধ করেছে। গত সপ্তাহের শেষের দিকে ব্যারো বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ট্র্যাজেডির কোনো ধরনের ব্যবহার আমরা প্রত্যাখ্যান করি, যা একটি ফরাসি পরিবারকে শোকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে, বিশেষ করে সহিংসতার বিষয়ে, আমরা আসলে কোনও শিক্ষাই নেইনি, ওই পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়।

সোমবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তলব করার পরও কুশনারের না আসার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। এরপরই তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদূত মিশনের মৌলিক বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে স্পষ্ট ব্যর্থতার’ অভিযোগ আনা হয়।

যেখানে বলা হয়েছে যে, কুশনারকে যাতে ‘সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি না দেওয়া হয়’ সে বিষয়েও ব্যারো অনুরোধ করেছিলেন।

মঙ্গলবার কুশনারের সাথে কথা বলার আগে, ব্যারো ফ্রান্সইনফোকে বলেছিলেন যে, তার তলবের উত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়া একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন