নিজস্ব প্রতিবেদক: আমেরিকার দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন মুসলিম উম্মাহ নর্থ অফ আমরিকার (মুনা) কনভেনশনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিন বছর বিরতির পর এবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর আগস্ট মাসের ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখ। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ অংশ নিবে। কনভেনশনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়া কনভেনশন সেন্টার।
সোমবার (০৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী। সংগঠনের মজলিশে শুরার সদস্য আব্দুল্লাহ আল আরিফের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হারুন অর রশীদ, মজলিশে শুরার সদস্য এম. এম মাওলা সুজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুনা মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্পোরেশন ভুক্ত করা হয়। বর্তমান মুনা আমেরিকার ৪০ এর অধিক রাজ্যে কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে। মুসলমানদের প্রাত্যহিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার সেবা করে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এবারের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় এবং থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আল-কোরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি’। আল-কোরআন পথনির্দেশ করে গোটা মানব জাতিকে। কল্যাণকর ও নির্ভুল পথ প্রদর্শন করে পথভ্রান্ত দিকহারা মানবতাকে। ব্যক্তিজীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন, মানব দেহের অভ্যন্তরে লুকায়িত সৃষ্টি লোকের ব্যাখ্যা এই গ্রন্থে নির্ভুলভাবে আছে। এটা বিজ্ঞানময় এটা অলৌকিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। এটা একজন বিশ্বাসী মানুষের বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তি পরিবার এবং সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র শাশ্বত চ্যালঞ্জিং বিধান। এটি শুধু মুসলিম তথা ইসলাম বিশ্বাসীদের জন্য নয়, এটা গোটা মানবগোষ্ঠীর উন্নতি ও অগ্রগতির সোপান। এই মহাগ্রন্থের কল্যাণকর পতাকা প্রতিটি হৃদয়, প্রতিটি ঘর, প্রতিটি সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে পৌঁছে যাক মুনা এই বিশ্বাস ধারণ করেই এবারের কনভেনশনের মূল কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে তরুণ ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা ইয়ূথ কনভনেশন এবং ইয়ং সিস্টার্স কনভেনশন। আল-কোরআনের অনুসারে কল্যাণকর জীবন যাপনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের উপর প্যারালাল অনুষ্ঠান রয়েছে। আলোচনা ছাড়া থাকবে মনাজ্ঞ ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ইসলামী ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকান নিয়ে বিশাল বাজার। ছোটদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান লার্ন এন্ড ফান। এছাড়াও থাকবে বিভিন্ন খেলাধুলা রাইডের ব্যবস্থা। ফিলাডেলফিয়া ভ্রমণকারীদের জন্য থাকবে আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতিবহুল ভ্রাতৃপ্রতিম ভালোবাসার শহরে নানা দর্শনীয় স্থান পরিবহন ও পরিদর্শনের সুযোগ।
আরও বলা হয়, একটি দাওয়াতি সংগঠন হিসাবে মুনা মুসলমানদের আহ্বান করে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন ইসলাম পালনের এবং অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরতে। একটি অলাভজনক সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে মুনা আমরিকা কিংবা বিদেশে কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। নিজস্ব স্বতন্ত্র সংবিধান, কর্মসূচি ও কর্মপদ্ধতির আলোকেই এই সংগঠনটি পরিচালিত হয়ে আসছে জন্মলগ্ন থেকে। মুনা প্রধানত ঐ সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে যাতে করে একজন ব্যক্তিকে সংশোধনের মাধ্যমে সর্বাঙ্গীণ সামাজিকভাবে কল্যাণকর ব্যক্তিতে পরিণত করা যায়। এ লক্ষ্যে মুনা ব্যক্তিদেরকে আধ্যাত্মিক নৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। মুনা চায় এমন সব প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন যারা তাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহ তা’য়ালার সাথে সম্পর্কের সুসামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে এবং একই সময় সমাজের সর্বক্ষত্রে উৎপাদনমুখী ভূমিকা পালন করে।
মুনা সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ষান্মাসিক এবং বার্ষিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ও পর্যায়ের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে; যাতে শিক্ষাদান করা হয় ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ এবং মানুষের দৈন্দদিন সাধারণ সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কিত বিষয়াবলী।
সিএন/এমটি



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন