রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

মেয়র মামদানির সামনে ৪ চ্যালেঞ্জ

শনিবার, জানুয়ারী ৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

২০২৬ সালের প্রথম দিনে তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজারো নিউইয়র্কবাসীর উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন শহরটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি।

প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এই নেতা তার অভিষেক ভাষণে নিউইয়র্ক সিটিকে কেন্দ্র করে এক নতুন গল্পের সূচনা করার অঙ্গীকার করেন, যেখানে নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সমৃদ্ধি হবে মূল লক্ষ্য। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরটির জন্য তিনি বিনামূল্যে শিশু যত্ন, বিনামূল্যের বাস পরিষেবা এবং সিটি পরিচালিত মুদি দোকানের মতো উচ্চাভিলাষী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে এই পথচলা তার জন্য মোটেও মসৃণ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অধ্যাপকদের মতে, নিউইয়র্কের মতো বিশাল ও জটিল একটি শহরে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে মামদানিকে মূলত চারটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রথম চ্যালেঞ্জটি হলো তার নীতিগত প্রতিশ্রুতির অর্থায়ন। বিনামূল্যে শিশু যত্ন বা বাস পরিষেবার মতো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন। মামদানি ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে বার্ষিক ৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করলেও এজন্য তাকে রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভর করতে হবে। মাঝারি ধারার ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হকুল এই বিস্তৃত কর পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত কতটা সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে জননীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি হলো- হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর আক্রমণ করলেও সম্প্রতি তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপ হয়েছে। তবে অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং মামদানির উদারনীতির মধ্যে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তৃতীয়ত, শহরের শক্তিশালী ব্যবসায়ী নেতাদের আস্থায় নেওয়া মামদানির জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ওয়াল স্ট্রিটের অনেক নেতা তার জয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে শহর ছাড়ার হুমকি দিলেও মামদানি ইতিমধ্যে জেপি মরগ্যান চেজের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবুও কর বৃদ্ধির ফলে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিউইয়র্ক ত্যাগ করবে কি না, সেই শঙ্কা রয়েই গেছে।

চতুর্থ এবং অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো- জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও ২০২৫ সালে অপরাধের হার রেকর্ড পর্যায়ে কমে এসেছে, তবে মামদানি পুলিশের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ‘কমিউনিটি সেফটি বিভাগ’ গঠনের যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কবাসী নিরাপদ বোধ না করলে মেয়রের অন্য কোনো সাফল্যই শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকবে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন