নিজস্ব প্রতিবেদক: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে ভোট দিয়েছেন লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক। ভোট গ্রহণ শেষে এখন চলছে ভোট গণনা। টান টান উত্তেজনায় প্রকাশিত হচ্ছে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম। তবে এর মধ্যেই খবর বেরিয়েছে রাশিয়ার বহুল আলোচিত ভাড়াটে সেনাদল ‘দ্য ওয়াগনার গ্রুপ’ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছে দলটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন। ‘দ্য ওয়াগনার গ্রুপ’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘কাছের মানুষ’ হিসেবে পরিচিত।
রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইয়েভগেনি প্রিগোজিন বলেন, মার্কিন নির্বাচনে তাদের প্রভাব খাটানোর বিষয়টি এবারই নতুন নয়। তাঁরা আগেও প্রভাব খাটিয়েছেন, ভবিষ্যতেও খাটাবেন।
কীভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন তা জানিয়ে রুশ ধনকুবের প্রিগোজিন বলেন, অতি সূক্ষ্মভাবে সাবধানতা অবলম্বন করে কৌশল প্রয়োগের অভিজ্ঞতা আমাদের দীর্ঘদিনের। কারণ, আমরা জানি কীভাবে কাজটি করতে হয়। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারে আমরা একই সঙ্গে কিডনি ও লিভার-দুটোই অপসারণ করি। যদিও তিনি পুরো ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করেননি।
জানা যায়, ইয়েভগেনি প্রিগোজিনর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রিগোজিনের হস্তক্ষেপের বিষয়ে তথ্য পেতে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে তেমন পরিচিতি ছিলেন না প্রিগোজিন। তবে যুদ্ধের পর তিনি রুশ সেনাদের সমালোচনা করে পরিচিতি পেয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বরে প্রিগোজিন ওয়াগনার গ্রুপ প্রতিষ্ঠার কথা স্বীকার করেন। এটি আফ্রিকা, সিরিয়া এবং ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত। যদিও এর আগে এই সংগঠনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন পুতিনের এই ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। বছরের পর বছর গোপনীয়তা শেষ করে গত মাসে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে প্রিবুওশন প্রথমবারের মতো ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতার কথা স্বীকার করেন। ওই সময় তিনি জানান, তিনিই ওয়াগনারের প্রতিষ্ঠাতা। ওয়াগনার গ্রুপের সদস্যদের বেশির ভাগ সাবেক রুশ সেনা। সিরিয়া, আফ্রিকান দেশ ও ইউক্রেনে সক্রিয় রয়েছে এই গ্রুপের সদস্যরা।
সিএন/এমটি



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন