ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানিয়েছেন, মাদক পাচার এবং তেলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘যেখানে-ই হোক, যখন-ই হোক’ সংলাপে বসতে রাজি আছি।
মাদুরো তার সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবি নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান মাদুরো। ট্রাম্পের দাবির মধ্যে ছিল- যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি নোঙর সুবিধা (ডকিং ফ্যাসিলিটি) লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা সিআইএ পরিচালনা করেছে বলে খবর পাওয়া যায়।
বিবিসি জানিয়েছে, মাদুরো এমন সময়ে সংলাপে প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন, যখন মার্কিন বাহিনী গত তিন মাস ধরে ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মাদক পাচারের সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানকে লক্ষ্য করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে ৩০টির বেশি নৌযান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ২ সেপ্টেম্বর প্রথম নৌযানকে হামলার পর এসব অভিযানে ১১০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ হামলাটি বুধবার ঘটে, যেখানে মাদক বহনের অভিযোগ তুলে দুটি নৌযানে আঘাত হানা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নৌযান দুটিতে থাকা পাঁচজন নিহত হন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এ অভিযানে ভেনেজুয়েলার একটি ‘ডক এলাকায়’ নৌযান লক্ষ্য ছিল, যা মাদক বহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিআইএ পরিচালিত একটি ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণটি ঘটে। যদি এ তথ্য সত্য হয়, তবে এটি ভেনেজুয়েলার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অভিযান হবে।
তবে সাক্ষাৎকারে মাদুরো এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। হামলাটি নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে হয়তো আমরা কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করতে পারি।’
মাদক পাচারের পাশাপাশি তেল এবং অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্নেও আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মাদুরো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো তার দেশের ‘কারাগার ও মানসিক আশ্রয়কেন্দ্র খালি করে’ বন্দিদের জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাংকার নিয়েও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষিদ্ধ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ভেনেজুয়েলা এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর পর থেকে আরও একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে এবং একটি তৃতীয় ট্যাংকারকে ধাওয়া করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদকবাহী সন্দেহভাজন নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে যে অভিযান পরিচালনা করছে, তাকে তারা ‘অ-আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারে।
বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌযানকে লক্ষ্য করেছে, সেগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল কিনা- তার কোনো প্রমাণ তারা এখনো প্রকাশ করেনি। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড দাবি করেছে, গোয়েন্দা তথ্য নিশ্চিত করেছে যে নৌযানগুলো মাদক পাচারের পরিচিত রুটে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচারে জড়িত ছিল।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন