আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার প্রকাশিত ‘হিউম্যানিটি মাস্ট উইন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ফিফা ও আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে সমর্থক, খেলোয়াড় ও স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই বিশ্বকাপে সবাই ‘নিরাপদ, অন্তর্ভুক্ত এবং অধিকার চর্চায় মুক্ত’ অনুভব করবেন। তবে অ্যামনেস্টি বলছে, তিনটি আয়োজক দেশের মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতির ‘সুস্পষ্ট বৈপরীত্য’ রয়েছে।
১০৪টি ম্যাচের ৭৫ শতাংশই আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যামনেস্টি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে দেশটি এখন ‘মানবাধিকার জরুরি অবস্থায়’ রয়েছে। গণ-বহিষ্কার, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং ‘আধা-সামরিক ধাঁচের’ আইসিই অভিযান এই উদ্বেগের কারণ। এমনকি আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গত মাসে বলেছেন, সংস্থাটি বিশ্বকাপের ‘সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হবে।
এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী চারটি দেশ — আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান ও সেনেগালের সমর্থকরা মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। এদিকে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন এলজিবিটিকিউ+ সমর্থক গোষ্ঠী ট্রান্সজেন্ডার সমর্থকদের ঝুঁকির কথা তুলে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ কবার্ন বলেছেন, ‘ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড আয় করছে, কিন্তু এর জন্য সমর্থক, স্থানীয় জনগণ, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের মূল্য দিতে হবে, এমনটা হতে দেওয়া চলবে না। ফুটবল সরকার, স্পনসর বা ফিফার নয় — এটা এই মানুষগুলোর এবং তাদের অধিকার টুর্নামেন্টের কেন্দ্রে থাকতে হবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই বিশ্বকাপ ফিফার একসময়ের বিবেচনার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’ ফিফা এই টুর্নামেন্ট থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে এবং ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন