যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব পেটেন্টকৃত আমদানিকৃত ওষুধের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওষুধ কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তিতে আসে, তাহলে তারা এই উচ্চ শুল্ক এড়াতে পারবে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের অধ্যাপক শন সুলিভান বলেন, এই উদ্যোগ মূলত কোম্পানিগুলোকে আলোচনায় আনার একটি কৌশল। ইতোমধ্যে বড় বড় ওষুধ কোম্পানি সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে, ফলে তারা শুল্ক থেকে ছাড় পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই আরও প্রতিষ্ঠান একই পথে হাঁটবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি ২০২৯ সালের জানুয়ারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের জন্য শুল্ক ১০০% থেকে কমে ২০% হবে। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি (০%) মওকুফ করা হবে।
এছাড়া ইউরোপ, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশের সঙ্গে আগের চুক্তি অনুযায়ী কম শুল্ক বজায় থাকবে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরের যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তিতে ব্রিটিশ ওষুধের ওপর মার্কিন শুল্ক শূন্য রাখা হয়েছে।
তবে ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ফ্রাঙ্ক সতর্ক করেছেন, বড় কোম্পানিগুলো সুবিধা পেলেও ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ওষুধের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ালে খরচও বাড়বে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, এই শুল্কের চাপের ফলে ইতোমধ্যে ওষুধ কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই বিশেষ সুবিধাগুলো ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কার্যকর থাকবে না।
একই সঙ্গে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্কের নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প সরকার।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন