শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

রাজনীতির চার দশক: খালেদা জিয়ার দীর্ঘ পথচলা

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

সিএন প্রতিবেদন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে এক প্রভাবশালী নাম বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই নেত্রী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার ৪১ বছর পূর্ণ করেছেন গৃহবধূ থেকে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানোর এক ব্যতিক্রমী যাত্রার মধ্য দিয়ে।

১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ে বিএনপি। সেই সংকটময় সময়ে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে হন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং একই বছরের এপ্রিলে দলের বর্ধিত সভায় প্রথমবার বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বেই ছিলেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে। স্বৈরশাসন উৎখাতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিকবার গৃহবন্দি ও অন্তরীণ হন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আট বছরে সাতবার তাকে আটক করা হয়। তবু এরশাদ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসে যাননি তিনি।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে দেশ। এরপর ১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য এবং ২০০১ সালে পূর্ণ মেয়াদে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে ৩৭২ দিন কারাবন্দি থাকেন তিনি। কারাগারে থাকাকালেই মারা যান তার মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় আবারও কারাবরণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে করোনাকালে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পান এবং ২০২৫ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির দণ্ডমুক্ত ঘোষণার মাধ্যমে সম্পূর্ণ মুক্ত হন।

রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও ২০১৪ সালের পর আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। বিএনপির নির্বাচনী বয়কট এবং আদালতের আদেশে তার রাজনীতির মাঠ সীমিত হয়ে পড়ে। তবে এর আগে অংশ নেওয়া প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়ী হন—যা তাকে দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে।

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া দিনাজপুরে বেড়ে ওঠেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় তিনি। দুই ছেলে—তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী এই নেত্রী ব্যক্তিগত জীবনের নানা বেদনা বয়ে নিয়েও চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এক অধ্যায় হয়ে আছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন