চলমান ডেস্ক: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মঙ্গলবার রাশিয়া কিয়েভের একটি হলোকাস্ট মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সে হামলা করেছে। এটা প্রমাণ করে রাশিয়া আমাদের নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, তারা কিয়েভ এবং আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু তারা সবাই আমাদের ইতিহাস, আমাদের দেশ এবং আমাদের মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তারা এর কিছুই করতে পারবে না। এ ছাড়া জেলেনস্কি ক্রেমলিনের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিমান হামলা ও বোমা দিয়ে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না ক্রেমলিন।
এসময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে প্রায় ছয় হাজার রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে। এ দিকে রাশিয়া তাদের কতজন সেনা নিহত হয়েছে সেই ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানায়নি। আন্তর্জাতিক কোন গণমাধ্যমও স্বতন্ত্রভাবে জেলেনস্কির দেওয়া নিহতের সংখ্যাটি যাচাই করতে পারেনি।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে পারমাণবিক ও ধ্বংসাত্মক: রাশিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগলে এতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হবে এবং সেটি হবে ধ্বংসাত্মক।’ তিনি বলেছেন, কিয়েভ পারমাণবিক অস্ত্রধারী হয়ে উঠলে তা রাশিয়াকে ‘প্রকৃত বিপদের’ সম্মুখীন করবে। যে কারণে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পশ্চিমা শক্তির সমর্থন নিয়ে ইউক্রেন পরমাণু অস্ত্র হাত করার চেষ্টা করবে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ভিডিওর মাধ্যমে দেয়া এক ভাষণে লাভরভ একথা বলেন। তবে এই অভিযোগের স্বপক্ষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এক সপ্তাহ ধরে প্রতিবেশী ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে রুশ সামরিক বাহিনী। এর জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। ইতোমধ্যে রাশিয়ার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক, কর্মকর্তা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ।
ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বলেন, কিয়েভের সাথে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। কিন্তু ওয়াশিংটনের নির্দেশে ইউক্রেন দূরে চলে যাচ্ছে। আমরা দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে সময়ক্ষেপণ করছে।
ইউক্রেন ছেড়েছে ৮ লাখের বেশি নাগরিক: জাতিসংঘ

চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে আট লাখ ৩০ হাজার নাগরিক। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জানা গেছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় প্রতিবেশী ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে কিয়েভেবাসী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়াদের অধিকাংশই পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে চার লাখ ৫০ হাজার ইউক্রেনীয় আশ্রয় নিয়েছে। তবে কিয়েভ থেকে পালানোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রাশিয়াও ইউক্রেন সরকারের পতনের জন্য হামলা তীব্র করেছে।
মঙ্গলবার ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু সুজারল্যান্ডের জেনেভায় বলেন, পোল্যান্ডে প্রবেশের জন্য ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোকজনকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে রোমানিয়ান সীমান্তে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লাইন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুতিনের ধারণাই নেই তার কি হবে: বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন দখল করলে পশ্চিমা বিশ্ব কিভাবে পাল্টা আঘাত করবে সে বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই ভ্লাদিমির পুতিনের। কংগ্রেসে বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি রুশ নেতার তীব্র সমালোচনা করেন। বাইডেন ‘স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার বিজয়ের পক্ষে অবিচল থাকার’ প্রত্যয় ঘোষণা করেন। ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যকে একযোগে করতালির মাধ্যমে সমর্থন দেন।
যুক্তরাষ্ট্র সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে আইনপ্রণেতাদের সামনে ঘণ্টাখানেকের এ ভাষণে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং বিনা প্ররোচনায় পুতিন এই যুদ্ধ চালাচ্ছেন। পুতিনকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, তিনি (পুতিন) ভেবেছিলেন পশ্চিমারা এবং ন্যাটো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। তিনি আমাদের ঘরেই বিভেদ সৃষ্টি করতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন। পুতিন ভুল ভেবেছিলেন। আমরা ছিলাম প্রস্তুত, যোগ করেন বাইডেন। রাশিয়ার অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থা এবং খোদ পুতিনের ঘনিষ্ঠ চক্রের কয়েকজনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেশগুলো।
বাইডেন তার আগে লেখা নির্ধারিত বক্তব্যের বাইরেও পুতিনকে হুমকি দেন এবং অর্থনৈতিক বদলা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সামনে কী ঘটতে চলেছে পুতিনের সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই।
এ যুদ্ধের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নীতি: ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে তেহরান। তবে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে ‘সঙ্কটের মূল কারণ’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি। মঙ্গলবার এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এসব কথা বলেন। যদিও এতদিন এ সংঘাত নিয়ে কথা বলা থেকে তিনি দূরে ছিলেন।
খামেনি বলেন, ‘যে কোনো সংকটের সমাধান’ এর ‘মূল কারণের’ মধ্যে নিহিত। ইউক্রেন সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দায়ী। ইউক্রেনের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে ‘ভুক্তভোগী’।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইউক্রেনকে বর্তমানের অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, সেখানে বিপ্লব ঘটিয়ে এবং এক সরকারের পতন করে অন্য সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে ইউক্রেনকে এ পরিস্থিতিতে টেনে আনে ওয়াশিংটন।
খামেনি বলেন, যদি ইউক্রেনের নাগরিকরা সরকারকে সমর্থন দিত তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মাফিয়া সাম্রাজ্য’, ইউক্রেন সে সাম্রাজ্যের নীতির কারণে ‘ভুক্তভোগীতে’ পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বেঁচেই আছে সংকট তৈরির মাধ্যমে। যদি যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা না বাড়ায় তবে তাদের অস্ত্র খাত বিকশিত হতে পারবে না।
নিজেদের আকাশসীমায় রুশ বিমান নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের আকাশসীমায় রুশ উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন বলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে, নিজেদের আকাশসীমায় রুশ উড়োজাহাজ চলাচলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় রুশ বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো।’ (ইউক্রেনে হামলার জেরে) রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা ও মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।
দীর্ঘ দুই মাস ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েন রাখার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে দেশটির পূর্বাঞ্চলে সেনা অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার ভাষণ সম্প্রচারের পরপরই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং তড়িৎগতিতে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশপাশি চতুর্দিক থেকে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে রুশ সেনাবাহিনী।
ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পরদিনই যুক্তরাজ্য নিজেদের আকাশসীমায় রুশ বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারপর একে একে যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো ইউরোপের অনেক দেশই। তারপর ২৭ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আকাশসীমায় রুশ বিমান নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন