চলমান ডেস্ক: রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইউক্রেনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির দলের আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশ দুটির মধ্যে চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে বেলারুশে এই আলোচনায় মিলিত হন তারা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে প্রিপিয়াত নদীর কাছে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তের গোমেল অঞ্চলে এই বৈঠক শুরু করেন উভয়ই দেশের নেতারা।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায় আলোচনায় তাদের লক্ষ্য হলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার। আলোচনায় ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। সোমবার রুশ আলোচক ভ্লাদিমির মেডিনস্কি বলেন, এই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে তাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে। রুশ আলোচক মেডিনস্কি জানান, তারা আশা করছেন স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে আলোচনা শুরু হবে।
জোনাহ বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনার আগে মস্কো তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসবে কি-না সে বিষয়ে মস্কো কোনো ধরনের ইঙ্গিত দেয়নি।
আরো পড়ুন: ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা করতে বিশেষ বৈঠক আহ্বান আইএইএ’র
স্ব-ঘোষিত স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী দোনেৎস্ক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী লুহানস্কের স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মস্কোর দাবির মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা ও দেশের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলকে কিয়েভের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া।
ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানায় যে, এ আলোচনায় তাদের বিবেচ্য বিষয় যুদ্ধবিরতি এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রুশ সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়া। যদিও রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছিলেন, তিনি এই আলোচনা থেকে তেমন কোনো অগ্রগতি আশা করেন না।
৫ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত

ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চারদিনে পাঁচ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। সোমবার এ দাবি করা হয় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত চারদিনে প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের ফোর্স রাশিয়ার ১৯১টি ট্যাংক, ২৯টি ফাইটার জেট, ২৯টি হেলিকপ্টার এবং ৮১৬টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।
ইইউ সদস্যপদ চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদমির জেলেনস্কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে যেন অবিলম্বে সদস্যপদ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সকল ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে এক হওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একই সঙ্গে পথ চলা। আমি জানি এটি ন্যায্য ও এটি সম্ভব। এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ান সৈন্যদের তাদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থানে ব্রাজিল
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধের বিষয়ে যাদের অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু বিভিন্ন অপরাধ করার কারণে জেলে বন্দি হয়ে আছেন তাদেরও ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তবে জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নৈতিকতার পরিপন্থি। কিন্তু রাশিয়ানদের বিতাড়িত করতে যা করার দরকার তার সবই করবেন তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলো ইইউ

ইউক্রেন সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সদস্য দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল।
সোমবার এক টুইট বার্তায় জোসেফ বোরেল জানান ইইউ প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এই বৈঠকের আলোচ্যসূচি হবে ‘জরুরি প্রয়োজন’ এবং ইউক্রেনীয়দের জন্য জোটের সহায়তার সমন্বয়। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশকে অবিলম্বে ইইউ সদস্য করে নেওয়ার আহ্বান জানান। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেন, ‘ইইউ সম্প্রসারণে ভিন্ন মতামত এবং স্পর্শকাতরতা রয়েছে।’
দেশ ছেড়েছেন পাঁচ লক্ষাধিক ইউক্রেনীয়

ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আগ্রাসন শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটি ছেড়ে পালিয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়। ভিনদেশে শরণার্থীর জীবন বেছে নিয়েছে তারা। সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের তরফে মানবিক তৎপরতার প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানান তিনি। বিদ্যমান যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশ ছেড়ে পালাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত এলাকার দিকে যাত্রা করছে। এর পাশাপাশি আগ্রাসী শক্তিকে প্রতিরোধের লড়াইয়ে নেমে পড়েছে অনেকে।
আরো পড়ুন: আমি কিয়েভেই আছি, এখানেই থাকবো: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট
কিয়েভ অভিমুখে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। পিস্তল, ছুরি কিংবা হাতুড়ি যে যা পেরেছেন তাই নিয়ে হাজির হয়েছেন লোকজন হাজির হয়েছেন এসব ব্যারিকেডে। বালুভর্তি বস্তা, কাঠের বাক্স ও ইট স্তূপ করে এসব স্থানে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় পতাকা।
ইউক্রেনের দুই শহর, পরমাণু বিদ্যুৎ দখল

ইউক্রেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ জাপোরিজ্জায়ার দুই শহর বারদিয়ানস্ক ও এনারহোডারের দখল নিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। জাপোরিজ্জায়ার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও বর্তমানে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে সোমবার রুশ বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দখল করলেও তা ধ্বংস করেনি রুশ বাহিনী। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ আগের মতোই স্বাভাবিক আছে জাপোরিজ্জায়ায়। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এই তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করে বলেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখনও ইউক্রেন সরকারের দখলেই আছে।
এদিকে গতকাল রোববার ইউক্রেনের বন্দরশহর মালিতপোলে প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী এবং এখন পর্যন্ত সেখানে ইউক্রেন বাহিনী ও রুশ বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সদ্য রাশিয়ার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশ দোনেতস্কের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পাবলো কিরিলেঙ্কো।
রাশিয়ার মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে রাশিয়া। এবার ভদকাসহ মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়া গেল। রোববার কানাডা এবং রাশিয়ায় ভদকাসহ রাশিয়ান মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। এই দুই দেশের মদের দোকান ও বারে আর মিলবে না রাশিয়ার তৈরি মদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের গভর্নর ক্রিস সুনুনু বলেন, রাশিয়ান ব্র্যান্ড এবং রাশিয়ায় তৈরি কোনো মদ আর সেখানে বিক্রি করা যাবে না। এদিকে কানাডার অন্টারিও’র ৬৭৯টি দোকান থেকে রাশিয়ান মদের বোতল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ২০২১ সালে কানাডা প্রায় ২৯ কোটি টাকার রাশিয়ান মদ আমদানি করে। হুইস্কি, স্ট্যাটসস্কানের পর কানাডার এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়।
রাশিয়ার ৩৫০ ওয়েবসাইট হ্যাক

মস্কোর বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হ্যাকারদের গ্রুপ অ্যানোনিমাস রাশিয়ার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের ৩৫০টিরও বেশি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। ওয়েবসাইট হ্যাকের পর সেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনবিরোধী বার্তা জুড়ে দিয়ে রুশ জনগণকে পুতিনের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী অ্যানোনিমাস বলেছে, রাশিয়ার সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম, ব্যাংক এবং বেলারুশের প্রথম সারির বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় এই হ্যাকার গ্রুপ বলেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্যাক করা রাশিয়ার তিন শতাধিক ওয়েবসাইটের বেশিরভাগই বর্তমানে অফলাইনে আছে।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন