ঢাকা: প্রায় পাঁচ বছর পর মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো নির্যাতনকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। দেরি হলেও মোস্ট ওয়েলকাম।
মোমেন বলেন, জেনোসাইডের শিকার ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসন ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য বড় শক্তি যারা, তারা যদি পুশ করেন, প্রেসার দেন, তাহলে আমার ধারণা, একটা সমাধা হতে পারে।
তারা এ ব্যাপারে আরও সজাগ হবেন, যাতে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হয় এবং সুন্দর ভবিষ্যত যাতে তারা গড়ে তুলতে পারে। আশা করি, ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেটের এটা বলার পরে তারা চাপ দেবে মিয়ানমার সরকারকে, যাতে তারা নিজেদের লোকদের নিয়ে যায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নিজেদের লোকদের নিয়ে যাবেস। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে এটা ধীরগতি করছেন। সেক্রেটারি অব স্টেটের বক্তব্যের পরে এটা যদি ত্বরান্বিত হয় আমরা খুশী হব। কারণ আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এদের মঙ্গল। আর যাতে এ ধরনের জেনোসাইডের শাস্তি হয়।
এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের দক্ষিণপশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
ওই ঘটনায় মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার প্রস্তাব করে জাতিসংঘ।
সাড়ে চার বছর আগে রোহিঙ্গা ঢলের ওই সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনকে ’জাতিগত নিধনের ধ্রুপদী উদাহরণ‘ হিসেবে বর্ণনা করেছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার কার্যালয়।
এর আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর চালানো হত্যাযজ্ঞকে জেনোসাইড হিসেবে উল্লেখ করেছিল ফ্রান্স ও কানাডা।
গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনকে জেনোসাইড হিসাবে ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন।
আইআই/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন