শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

‘রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া এখনো নিরাপদ নয়’

বুধবার, মে ১১, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: আগ্রাসন থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখনো তাদের আদি নিবাসে ফিরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ সে দেশে এখনে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (ইউএসএআইডি) উপপ্রশাসক ইসোবেল কোলম্যান। তবে রোহিঙ্গারা একদিন নিজেদের জন্মভূমিতে ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি।

বুধবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি প্রথমবারের মতো গত শনিবার বাংলাদেশে আসেন। পাঁচ দিনের এই সফরে এসে তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ইসোবেল কোলম্যান বলেন, ‘কক্সবাজার এবং ভাসানচরে মতবিনিময় করে জেনেছি, প্রত্যেক রোহিঙ্গাই তাদের আদি নিবাসে ফিরে যেতে চায়। তবে এখনই তারা ফিরে যেতে পারছে না। কারণ, সেখানকার (রাখাইন) পরিবেশ এখনো যে নিরাপদ নয়, সেটা সবার জানা আছে। যে বিয়োগান্ত, নৃশংস ও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার তারা হয়েছিল, তা কখনো ভোলার নয়। মার্কিন সরকার কয়েক মাস আগে সেখানকার ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। আমরা ওই নৃশংসতা ভুলতে পারি না। তাদের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়। নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পাশাপাশি নিজেদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কাজ করছি। তবে আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, প্রত্যাবাসনের কোনো সম্ভাবনা দেখি কি না? শিগগিরই এর কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। তারপরও আমাদের আশাবাদী থাকতে হবে যে তারা একদিন স্বেচ্ছায় নিজেদের আদি নিবাসে ফিরে যাবে।’

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য কক্সবাজার ও ভাসানচর সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে ইসোবেল কোলম্যান বলেন, ‘ভাসানচর ঘুরে আসার পর আমার কিছু উদ্বেগের কথা জানাতে চাই। এটা দুর্গম একটা জায়গা, যেখানে পৌঁছানো বেশ দুরূহ।কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের কাউকে কাউকে যে স্বেচ্ছায় নেওয়া হয়নি, এমন কিছু উদ্বেগের কথাও শুনেছি। মৌলিক কিছু সেবার ঘাটতির কথা জেনেছি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমার খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, জীবিকার পাশাপাশি সেখানকার মৌলিক সুবিধা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে কীভাবে এগোনো যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক সুবিধার পাশাপাশি তারা যাতে প্রয়োজন হলে কক্সবাজারে আসা-যাওয়া করতে পারে, এটাও জরুরি। কারণ, এটা অনেক দূরের এক যাত্রা। রোহিঙ্গারা তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ কক্সবাজারে, কেউ ভাসানচরে। পরিবরারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাটা চ্যালেঞ্জের। তাই এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে।’

ইসোবেলের মতে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবিকার জন্য সবজির চাষাবাদ, পশুপালন ও মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব একেবারেই নতুন উদ্যোগ। রোহিঙ্গারা এ থেকে এমন কিছু আয় করছে না, যা তাদের জীবিকা হিসেবে যথেষ্ট। এখনো সবকিছু তাদের কিনে খেতে হচ্ছে। যার দাম বেশ চড়া। ভাসানচরের আবাসন কক্সবাজারের চেয়ে ভালো। তবে কক্সবাজারে প্রয়োজনীয় খাবারদাবার দেশি-বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে পাওয়ার পাশাপাশি সহজে তাজা সবজি ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। তাই ভাসানচরে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করাটা জরুরি।

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন