শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

লক্ষ্মীপুরে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ!

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২১

প্রিন্ট করুন
Untitled design 72 1

অ আ আবীর আকাশ: লক্ষ্মীপুরে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে রায়পুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। শফিকুল দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর বাজারে কাঁচা ফুলের ব্যবসা করে আসছেন।

জানা গেছে, জেলা সদরের দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের মৃত হাজী সালামত উল্লাহর ছেলে নাসির হাওলাদারের সাথে একই এলাকার বাহার হোসেনের ছেলে মুরাদ হোসেনের ব্যাডমিন্টন খেলায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বাকবিতণ্ডা হয়। বৈদ্যুতিক তার চুরির অপবাদ দিয়ে মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন চৌধুরীর কাছে নালিশ দেয় মুরাদ।

হারুন চৌধুরী মুরাদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মুরাদ নাসিরের শরণাপন্ন হয়। এক পর্যায়ে দহলিজের মাঠে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে মুরাদকে চড় থাপ্পড় মারে নাসির। পরে মুরাদের শার্টের কলার চেপে ধরলে  আত্মচিৎকারে খেলার মাঠ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকারীদের মধ্যে ছিলেন- বাপ্পি, ফাহাদ, খলিলসহ অন্যান্য খেলোয়াররা। 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়পুর পৌরশহরের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফজলুর রহমান, শাহিনুর বেগম, ফাহাদ হোসেন, পপি আক্তার, খলিল, মুরাদ ও বাপ্পীসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শামসুন্নাহার, মুজাহিদুল ইসলাম, খলিল ও দোকানদার সাগর হোসেন বলেন, ‘ব্যাডমিন্টন খেলায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার ও মিথ্যা ‘তার চোর’ সাব্যস্ত করায় মুরাদ নাসিরের বাকবিতণ্ডা হয়। এখানে ফজলুর রহমান, শাহিনুর বেগম, ফাহাদের কোনরকম সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও পূর্ব শত্রুতার কারণে অহেতুক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে শফিক।
এলাকার জনসাধারণের প্রশ্ন- নাসির ও মুরাদের মধ্যে চলমান বিবাদে শফিক কেনো মামলার বাদী হলো? আবার যাদের উপস্থিতি বা সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের কেনো আসামি করলো?

এসব বিষয়ে মামলার আসামী করা ফজলুর রহমান ও শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তাদের ঝগড়াঝাটি বা মারামারিতে ছিলাম না; তাদের ঝগড়াঝাটির ভিডিও ফুটেজ আছে। দেখেন, আমরা সেখানে আছি কিনা! আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে শফিক ও নাসির।’

এ বিষয়ে মামলার বাদী শফিকের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি নাসিরের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে নাসির বলেন, ‘মুরাদ তার সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে এসে আমার ঘরে আমাকে মারধর করে। আমার শার্টের কলার চেপে ধরে। উল্টো আমাকে হয়রানি করে। আমি ৯৯৯ কল করে নিস্তার পাই।’

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সোহেল বলেন, ‘ আমি মামলা তদন্ত করছি। তদন্ত করে সঠিক নিরপেক্ষ রিপোর্ট দেয়া হবে। অহেতুক কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবো।’

এলাকাবাসীর দাবি মিথ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা থেকে ফজলুর রহমান, ফাহাদ ও শাহিনুরকে অব্যাহতি দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেয়া হোক। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় এলাকাতে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে।

আকাশ/আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন