বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইসরাইলে ক্লাস্টার বোমা হামলা ইরানের

বুধবার, মার্চ ১৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় প্রথমবারের মতো ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানে খোররামশহর-৪ এবং কদর মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর প্রতিটিতে একাধিক সাব-মিউনিশন বা ছোট বোমা সংযুক্ত ছিল। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, তেল আবিবের জনবহুল এবং সামরিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি এলাকায় এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মাঝ আকাশে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতার কারণে এই ধরণের ক্লাস্টার বোমা প্রতিরোধ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত দুরূহ।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, লারিজানি বা অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়বে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক সরকারি কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির কোনো সুযোগ নেই।

সংঘাতের আবহে ইরানের অভ্যন্তরীণ উত্তাপও বাড়ছে। সম্প্রতি মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুরোশ কেইভানি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) তেহরানের আইআরজিসি সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলা চললেও এর জবাবে ইরান বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এতে কোনো তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরাইলে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন