বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

লোকসভায় রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভারতের লোকসভায় স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে সংসদে তিনি বহুবার বক্তব্য রাখতে উঠলেও তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়। বুধবার লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।

সেই আলোচনার সময় সরকার পক্ষের সদস্য রবি শঙ্কর প্রসাদ সংসদীয় নিয়মকানুনের কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে শব্দচয়নে সংযত থাকার কথা বলেন তিনি।

এ সময় রাহুল গান্ধী দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন সংসদ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়। এটি পুরো দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠান।

তিনি অভিযোগ করেন, যখনই তিনি বক্তব্য রাখতে ওঠেন তখনই তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি বারবার সংসদে কথা বলতে চেয়েছেন কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার মতে সংসদ গণতান্ত্রিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং সেখানে সকলের কথা বলার অধিকার থাকা উচিত।

এর আগে স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন স্পিকারকে অপসারণের মতো একটি গুরুতর বিষয়কে কোনো ব্যক্তির অহং তৃপ্তির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন সংসদের ইতিহাসে এ ধরনের প্রস্তাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়া দুঃখজনক। কারণ এটি একটি ব্যক্তিগত অহংকারের ফল বলে মনে হচ্ছে। সংসদীয় প্রথা ও নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার উচিত বক্তব্য দেওয়ার সময় দায়িত্বশীল থাকা এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিষয়টি দেখা।

রবি শঙ্কর প্রসাদ সংসদের কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত নিয়মের উল্লেখ করে বলেন বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় তার উচিত খুব সতর্ক থাকা।

সরকারি দলের এই বক্তব্যের পরই বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য সংসদের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দিলীপ সাইকিয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিরোধী দলনেতাকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেন।এরপর রাহুল গান্ধী আবারও বক্তব্য রাখতে উঠে বলেন সংসদ কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি পুরো দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠান। তাই এখানে সব দলের সদস্যদের মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি বলেন সংসদে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় তখন বিরোধী দলের মতামত শোনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ গণতন্ত্রে ভিন্নমতই আলোচনাকে সমৃদ্ধ করে লোকসভায় স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এ ধরনের প্রস্তাব খুবই বিরল। তাই এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই বিতর্ক সংসদের ভেতরে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে তা সংসদের পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন সংসদে সুস্থ ও কার্যকর বিতর্কের পরিবেশ বজায় রাখা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সংসদে চলমান এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন