শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

শর্ত মানলে সামরিক অভিযান বন্ধ: রাশিয়া

মঙ্গলবার, মার্চ ৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: ইউক্রেন শর্ত মানলে ‘মুহূর্তেই’ সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। পেসকভ জানান, মস্কোর দাবির মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে, নিরপেক্ষ থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে, ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেতস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর সোমবার প্রথমবারের মতো মস্কো তার শর্তের বিস্তারিত বিবরণ দিলো। মস্কোর এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় কিয়েভের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। গত ১২ দিনের অভিযানে ইউক্রেনের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণের কয়েকটি এলাকা দখল করেছে রাশিয়া। আগ্রাসনের জবাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনটি অঞ্চল ছাড়া ইউক্রেনের আর কোনো অঞ্চলের দাবি করবে না রাশিয়া।
তিনি বলেন, আমরা সত্যিই ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণ শেষ করছি। আমরা এটা শেষ করব। তবে মূল বিষয় হল ইউক্রেন যেন তার সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে। তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত এবং এরপরে কেউ গুলি করবে না।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন জেলেনস্কি
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ভাষণ দেবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা ও ইউক্রেনের পক্ষে জনমত গড়ার অংশ হিসেবেই এই ভাষণ দেবেন তিনি। জানা যায়, ব্রিটেনের আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভাষণ দেবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। বক্তব্য প্রদানের জন্য এই সময় বেছে নেওয়ার কারণ— নিয়ম অনুযায়ী, হাউস অব কমন্সের নিয়মিত পার্লামেন্টারি কাজের সময় শেষ হয় বিকেল ৫ টার পর।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের নাম ওয়েস্ট মিনিস্টার হল এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস। তবে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতে নিম্নকক্ষেরই প্রভাব বেশি। আগে ৪ জন বিদেশি শীর্ষনেতা হাউস অব কমন্সের আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। তারা হলেন— সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যানজেলা মের্কেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে জেলেনস্কি হতে যাচ্ছেন এই তালিকার ৫ম ব্যক্তি।

১২ হাজারেরও বেশি রুশ সেনা নিহত: ইউক্রেন
ইউক্রেনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার এমন দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। ইউক্রেনীয় বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছেন, ৪৮টি রাশিয়ান বিমান, ৮০টি হেলিকপ্টার, ৩০৩টি ট্যাংক, এক হাজার ৩৬টি সাঁজোয়া যান, ১২০টি কামান, ৫৬টি রকেট লঞ্চার সিস্টেম এবং ২৭টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এমন দাবির সত্যতা অবশ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার দেশে চলমান রুশ আগ্রাসনে তিনি ভীত নন। দেশ ছেড়েও কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেন না তিনি। সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। তবে এবারের ভিডিওটি করা হয়েছে কিয়েভে তার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে।
বিবিসি জানিয়েছে, জেলেনস্কি তার দফতর থেকে এই বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে দেখাতে চেয়েছেন, রুশ আগ্রাসনের মুখেও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাজধানী কিয়েভকে শক্তভাবে রক্ষা করতে সক্ষম।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি রাশিয়ার
তেল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পশ্চিমারা সামনে আগালে জার্মানিতে নিজেদের মূল গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বলেছেন, ‘রাশিয়ার তেল প্রত্যাখ্যান বৈশ্বিক বাজারের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।’ এতে তেলের মূল্য দ্বিগুণ বেড়ে প্রতি ব্যারেল তিনশ’ ডলারে পারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ইউক্রেনে আগ্রাসন নিয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপে মিত্রদের নিয়ে উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সোমবার এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাস এবং ৩০ শতাংশ তেল পায় রাশিয়া থেকে। আর এই সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এর সহজ কোনও বিকল্পও নেই।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক বলেন, ইউরোপীয়ান বাজারে রাশিয়ার তেলের বিকল্প দ্রুত খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হবে। তিনি বলেন, এতে কয়েক বছর লেগে যাবে এবং ইউরোপীয়ান ভোক্তাদের জন্য এটা আরও অনেক বেশি ব্যয়বহুল হবে। চূড়ান্তভাবে এর জেরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে তারাই।

মানবিক করিডোর চালু ইউক্রেনের দুই শহরে
মানবিক করিডোর চালু করার পর প্রথমবারের মতো স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি দল ইউক্রেনের সুমি শহর ছেড়েছে। করিডোর চালুর আগের সিদ্ধান্ত রুশ সৈন্যদের গোলাবর্ষণের মুখে ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা অনুযায়ী মঙ্গলবার লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চেরিহিভ, সুমি, খারকিভ, মারিউপোল এবং রাজধানী কিয়েভ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য মানবিক করিডোর চালু করা হয়েছে।
সুমি ছাড়াও রাজধানী কিয়েভের পশ্চিমের শহর ইরপিন থেকেও একদল বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সি কুলেবা বলেছেন, রোমানভিকা গ্রামের ভেতর দিয়ে শহরের জনসংখ্যাকে কিয়েভ শহরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানকার ১৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এক টুইটে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা ইতোমধ্যে সুমি থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ বেসামরিক নাগরিকদের পোলটাভা (মধ্য-ইউক্রেনে) শহরে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছি। ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলেও মানবিক করিডোর চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য আমরা রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেল নিহত
ইউক্রেন সংঘাতে রাশিয়ার আরও এক শীর্ষ জেনারেল নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সেনারা খারকিভ শহরের কাছে একটি অবরুদ্ধ শহরে রাশিয়ার এক জেনারেলকে হত্যা করেছে। এ নিয়ে ইউক্রেন সংঘাতে রাশিয়ার দুজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হলেন। 
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেজর জেনারেল ভিতালি গেরাসিমোভ রাশিয়ার ৪১তম সামরিক বাহিনীর প্রথম ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। গত সোমবার তিনি নিহত হন।
এর আগে রাশিয়ার আরও এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। নিহত আন্দ্রেই সুখোভেটস্কি ছিলেন রাশিয়ান সপ্তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের কমান্ডিং জেনারেল ও ৪১তম সম্মিলিত সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার। তিনি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে নিহত হন।

সীমান্ত অভিমুখে ইউক্রেনীয়দের ঢল
মানবিক করিডোর দিয়ে বেরুতে শুরু করেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অবরুদ্ধ শহরের বাসিন্দারা। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভের পশ্চিম দিকের শহর ইরপিন থেকে বিপুল সংখ্যক লোকজন বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে। এর জেরে ইউক্রেন সীমান্তে যেন যুদ্ধাবস্থা থেকে পলায়নপর মানুষের ঢল নেমেছে।
বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে হেঁটে এবং গাড়িতে করে পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্তের মেডিকা বর্ডার ক্রসিংয়ে জড়ো হতে দেখা গেছে। সেখানে অপেক্ষারত যানবাহনের লাইন প্রায় ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তের ইউক্রেনীয় অংশ ২০ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন দুই নারী।
রাজধানী কিয়েভ, চেরনিহিভ, সুমি, খারকিভ এবং মারিউপোলের বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যেতে ‘মানবিক করিডোর’ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। তবে বেসামরিক বাসিন্দাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে সরে যেতে দেওয়ার এই উদ্যোগ যে সবক্ষেত্রে সহিংসতাবিহীন ছিল এমন নয়। 

অবরুদ্ধ মারিউপোল শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে রুশ সেনাদের গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মারিউপোল এবং জাপোরিঝিয়ার মধ্যেকার করিডোরের ওপর রুশ বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এমন সহিংসতা সত্ত্বেও মানবিক করিডোর দিয়ে সীমান্তে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন