রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

শিকাগোতে না আসতে ট্রাম্পকে প্রিটজকারের সতর্কবার্তা

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৬, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

সিএন প্রতিবেদন: শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর হুমকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে বি প্রিটজকার। সোমবার (২৫ আগস্ট) তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রেসিডেন্ট মহাশয়, শিকাগোতে আসবেন না। আপনাকে এখানে চাই না, প্রয়োজনও নেই।”

শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহ ধরে শিকাগোতে সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, ডি.সিতে যেভাবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল, শিকাগো হতে পারে তেমন পরবর্তী শহর। এরপরই প্রিটজকারের এ সতর্কবার্তা আসে।

প্রিটজকার ও শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন বলেন, তারা কখনো ফেডারেল হস্তক্ষেপ চাননি। শহরের এর প্রয়োজন নেই এবং হোয়াইট হাউস স্থানীয় কোনো নেতার সঙ্গে আলোচনাও করেনি।

গভর্নর প্রিটজকার বলেন, “শিকাগোর অপরাধের হার গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”

শহর ও পুলিশ বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় শিকাগোতে সহিংস অপরাধ প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে। হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মতো ঘটনাও কমেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, রিপাবলিকান শাসিত অনেক শহরে (যেমন- মেমফিস, টেনেসি) অপরাধের হার বেশি থাকা সত্ত্বেও কেন শিকাগোকেই লক্ষ্য করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “এটি স্পষ্ট যে ট্রাম্পের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি অপরাধ দমনের বিষয় নয়। বরং তিনি ব্লু-স্টেট ও ব্লু-সিটিতে সৈন্য পাঠিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখাতে চাইছেন।”

এ ছাড়া প্রিটজকার সতর্ক করে দেন, রিপাবলিকান গভর্নররা যদি ট্রাম্পকে সহায়তা করে ন্যাশনাল গার্ড পাঠান, তবে তা জনগণ ও দেশের প্রতি অবিচার হবে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডেমোক্র্যাট নেতারা ইতিমধ্যে ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন—অভিবাসন নীতি কিংবা রাজনৈতিক সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো ইস্যুতে।

তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন দাবি করেন, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধ দমন। তিনি বলেন, “যদি এসব ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পকে নিয়ে টেলিভিশনে অভিযোগ করার সময়ের অর্ধেকটাও তাদের শহরের অপরাধ মোকাবিলায় ব্যয় করতেন, তবে তাদের বাসিন্দারা অনেক বেশি নিরাপদ থাকতেন।”

গভর্নর প্রিটজকার অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইলিনয় অঙ্গরাজ্য শান্তিপূর্ণ সব উপায়ে এ সামরিক মোতায়েনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। প্রয়োজনে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন