যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নজিরবিহীন শীতকালীন ঝড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র ঠান্ডায় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দা। রোববার (২৫ জানুয়ারি) একদিনে বাতিল করা হয় ১৬ হাজারের বেশি ফ্লাইট। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টি মিলিয়ে জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শীতকালীন ঝড়ের কারণে লুইজিয়ানায় অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টেক্সাসেও আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বরফ জমে গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎতের লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ লাখ বাসিন্দা। টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎহীন তিন লাখ ৩০ হাজারের বেশি, মিসিসিপিতে এক লাখ ৬০ হাজার, লুইজিয়ানা ও টেক্সাসেও হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে। মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে তুষার ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মিসিসিপির অক্সফোর্ড শহর। সেখানে প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন, বহু এলাকায় গাছ ও বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্ক সিটিতেও প্রবল তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডা। মেয়র জোহরান মামদানি জানান, গত আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে শীতল সময় এটি। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, শনিবার শহরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও তাদের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ঝড়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। নিউ ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস বাতিল ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। তুষার ঝড়ের কারণে শার্লটে সব ধরনের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে দশ হাজারের বেশি ফ্লাইট। অন্তত ২৪টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি সতকর্তা ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পূর্ব আলাবামা ও দক্ষিণ-পশ্চিম জর্জিয়ার কিছু অংশে টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন