সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

শ্রীলঙ্কায় এক সাথে ২৬ মন্ত্রীর ইস্তফা, সংকট চরমে

সোমবার, এপ্রিল ৪, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে। বিদ্যুৎ নেই, পেট্রোল-ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে। অনেক জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে না। দেশজুড়ে কারফিউ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। সেই বিক্ষোভ সামাল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৬ জন মন্ত্রীই ইস্তফা দিয়েছেন। খবর ডয়চে ভেলের।

রোববার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে বৈঠকে বসেন মন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপাকসের বড় ছেলে ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নামাল রাজাপাকসে জানান, আমি প্রেসিডেন্টের সচিবালয়কে আমার ইস্তফার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। আমি অবিলম্বে আমার সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে চাই। আমার আশা, এর ফলে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সংকট কাটাবার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্থায়িত্ব আসবে। আমি আমার ভোটদাতা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধ থাকব।

রাতে তিন ফের টুইট করে জানিয়েছেন, তার ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। সেই সিদ্ধান্তে নামাল রাজাপাকসে খুশি ছিলেন না। তিনি টুইট করে বলেছেন, ‘এই নির্দেশে কোন কাজ হবে না। আমি প্রশাসনকে তাদের সিদ্ধান্ত ফের বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।’

এরপর ১৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরে শ্রীলঙ্কায় ইন্টারনেট পরিষেবা ফের চালু হয়েছে। তবে ফেসবুকসহ বেশ কিছু সামাজিক মাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এখন আকাশছোঁয়া। চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে। গুঁড়ো দুধের দাম হয়েছে এক হাজার ৯০০ টাকা। অনেক জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল-ডিজেল নেই বলে যানবাহনও রাস্তায় নেই। আমদানি বন্ধ বলে বিদেশ থেকে কোন জিনিস আসছে না। বিদ্যুতের রেশনিং চলছে। ফলে দিনে সামান্য সময়ের জন্য বিদ্যুৎ থাকছে। ফলে ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার মানুষ।

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। কার্ফিউ রয়েছে। তা সত্বেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ হচ্ছে। বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ৬৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভ হয়েছে। কারফিউ উপেক্ষা করে প্রচুর মানুষ সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে এসেছিলেন। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিরোধী নেতারা কলম্বোতে বিশাল মিছিল করেছেন। তবে বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমদাসার বাস ভবনের কাছে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

জরুরি অবস্থা চলছে বলে সেনা ও পুলিশের হাতে প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে। তারা যে কোন মানুষকে বিনা বিচারে দীর্ঘ দিন আটকে রাখতে পারবে। তবে এরপরও বিক্ষোভ থামানো যাচ্ছে না।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন