মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের ১৭ বছরের অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আরটি টকশোর এক আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রতন তালুকদার।

আলোচনায় তিনি বিশেষভাবে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ড. মোমেনের বিতর্কিত বক্তব্যগুলোকে দেশের কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে আখ্যা দেন।

রতন তালুকদার বলেন, চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোমেন প্রকাশ্যে দাবি করেন, ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক’ এবং ‘ভারত সরকারকে বলে এসেছি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে।’ একজন দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন বক্তব্য কূটনৈতিক শালীনতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, এসব বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই দেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয় এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের নেতিবাচক আবহ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা বক্তব্য দিলেও ড. মোমেনের কথাবার্তা ছিল আরও উসকানিমূলক, যা জনমনে ক্ষোভ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

আরটি টকশোতে রতন তালুকদার আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ড. মোমেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা’ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে যান নিউইয়র্কে অবস্থান করেন। ২৭ জুলাই নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একাংশের সভা এবং ২৯ জুলাই একটি ব্যক্তিগত দাওয়াতে তার উপস্থিতির তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে, তখন ড. মোমেন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন এটা কতটা যুক্তিসংগত? তার দাবি, বাংলাদেশে ফেরার গল্পটি মূলত একটি সাজানো রাজনৈতিক নাটক।

ড. মোমেনের রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে রতন তালুকদার বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বড় ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রভাব ও লবিংয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জন্মভূমির সম্পাদক। তার দাবি, তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে ওয়াশিংটন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং স্বাধীনতার শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন।

রতন তালুকদার বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যেসব ব্যক্তি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সরকারকে বিব্রত করেছেন, ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন তাদের অন্যতম। বিশেষ করে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর বক্তব্য দেশের ভেতরে ও বাইরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এসব বক্তব্যের কারণে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তাকে একাধিকবার সতর্ক ও ভর্ৎসনা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন