চট্টগ্রাম: অভিনব কায়দায় কাগজের ভিতর লুকিয়ে সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প এনে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ধরা খেল চট্টগ্রামের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির জাল সিগারেট স্ট্যাম্পের কনটেইনার জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটির আন্দরকিল্লার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাপ্পু এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে আর্ট পেপার ঘোষণায় এক কনটেইনার (২০ ফিট) পণ্য আমদানি করে। পণ্যচালানটি খালাসের লক্ষ্যে আগ্রাবাদের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মধুমতি এসোসিয়েটস লিমিটেড চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ) ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রপ্তানিকারক, রপ্তানিকারকের ওয়েবসাইট, তৈরি দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসায়ের ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে পণ্যচালানটিতে মিথ্যা ঘোষণায় সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারযোগ্য জাল স্ট্যাম্প থাকার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পায়। পরবর্তী কাস্টম হাউজের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা এসাইকুডা ওয়াল্র্ড সিস্টেমে ওই পণ্যচালানের বিল অব এন্ট্রিটি ব্লাক করে দেয়।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) ওই পণ্যচালানের কনটেইনারটি নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষা শুরু করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর টিম। কনটেইনারের ২০টি প্যালেটের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে পাঁচটি প্যালেট দেখানোর পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গড়িমসি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে কায়িক পরীক্ষা শেষ করার জন্য অনুরোধ করে। ওই পাঁচটি প্যালেটে শুধুই আর্ট পেপার পাওয়া যায়। কিন্তু এআইআর টিম শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করতে চায়। পরবর্তী এআইআর টিমের সদস্যরা আরো একটি প্যালেট খোলে তাতে সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প খুঁজে পায়। পরে এআইআর টিম ২০টি প্যালেট শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করে মোট ২৪৬ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেটে ২৬০ বান্ডিল ও প্রতি বান্ডিলে ৫০০ পিস হিসেবে) মোট তিন কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার পিস নিম্নস্তরের দশ শলাকাবিশিষ্ট সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী হালকা খয়েরী রংয়ের জাল স্ট্যাম্প পায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক আইনানুযায়ী, নিম্নস্তরের সিগারেট স্ট্যাম্পের রং হালকা খয়েরি, যার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৯-৬২ টাকা এবং যার বিপরীতে এসডির হার ৫৭ শতাংশ এবং মূসকের হার ১৫ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার উপ কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া জানান, এ পণ্যচালানটি খালাস হয়ে গেলে এ পরিমাণ জাল স্ট্যাম্প তিন কোটি উনিশ লাখ আশি হাজার নিম্নস্তরের সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহার করা যেত, যার মাধ্যমে সরকার প্রায় ৯০ কোটি হতে ১৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব হারাত।
উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক আইন অনুযায়ী স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কর্তৃক দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিগারেট স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল সরবরাহ ও ব্যবহার আড়াআড়ি যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক বাস্তবায়ন শাখায় পাঠাতে হয়। ফলে এ জাতীয় পণ্য দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কপোরেরেশন অব বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান হতে ক্রয় অথবা বিদেশ থেকে আমদানি করার কোন সুযোগ নেই।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন