মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন সরাসরি সংঘাতের রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৯ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। অত্যন্ত গোপনীয় এই তথ্যটি সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সামনে এসেছে। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।
রিয়াদ থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘প্রিন্স সুলতান’ বিমান ঘাঁটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান একযোগে ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন দিয়ে বিশাল এক হামলা চালায়। এই একটি আঘাতেই অন্তত ১৫ মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরও দুটি পৃথক হামলায় ১৪ জন সেনা আহত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে গত সাত দিনে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
‘প্রিন্স সুলতান’ বিমান ঘাঁটিটি মূলত রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও এটি মার্কিন সেনারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। ইরানের এই নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হামলা প্রমাণ করে যে, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনাগুলোও এখন আর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে নয়। প্রথমদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা মাত্র ১০ জন আহতের কথা স্বীকার করলেও, পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে আহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা ওয়াশিংটনকে একটি কঠোর বার্তা দিল। একদিকে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা আমেরিকা যখন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের এই সরাসরি সামরিক চ্যালেঞ্জ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে নিয়ে এলো। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ এবং জোরালো কোনো পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন