হত্যা ও জালিয়াতির চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নিয়মিত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব মামলায় তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।
আদালতে খায়রুল হকের জামিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, নাহিদ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান।
আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু কালের কণ্ঠকে বলেন, চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নিয়মিত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুদকের মামলায় তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল বিচারাধীন। ফলে চার মামলায় জামিন হলেও আপাতত তার কারামুক্তি মিলছে না।
নিয়মিত জামিন বলতে কত দিনের জামিন বোঝায় জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, নিয়মিত জামিন বলতে অনির্দিষ্টকালের জামিনকে বোঝায়।
তবে নিয়মিত জামিনের মেয়াদ থাকে মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল পর্যন্ত।
জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। এর জন্য জামিনের বিষয়টি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে নোট দেওয়া হবে।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক।
একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতি থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি থাকাকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল এবং ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন খায়রুল হক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের মামলার মূল রায়দানকারী হিসেবে রাজনৈতিকভাবে তিনি সমালোচিত হন।
গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছর ৬ আগস্ট মামলাটি করেছিলেন নিহতের বাবা মো. আলাউদ্দিন। ওই দিন দুদকও একটি মামলা করে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়।



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন