নজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মানব কম্পোস্টিংয়ের ( মাটির সাথে মিশানো) অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন যে কেউ চাইলেই মৃত্যুর পর মৃতদেহকে মাটিতে পরিণত করতে পারবেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে পরিবেশের উপকার হবে বলে মতামত বিশ্লেষকদের।
গত শনিবার ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্য হিসেবে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বিষয়টি অনুমোদন করেছেন বলে রোববার (১ জানুয়ারি) বিবিসির খবরে বলা হয়। এর আগে ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন এই পদ্ধতির অনুমোদন দেয়। পরে কলোরাডো, ওরেগন, ভারমন্টও অনুমোদন করে।
জানা গেছে, এই পদ্ধতি ‘প্রাকৃতিক জৈব হ্রাস’ নামেও পরিচিত। একজন ব্যক্তির মৃত্যুে পর তার মরদেহ একটি পাত্রে আবদ্ধ করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা হবে। যেখানে থাকে কাঠ এবং ঘাসের মতো নানান উপকরণ।
এসব উপকরণের প্রভাবে মৃতদেহ পচে মাটিতে পরিণত হয়। এই পদ্ধতিতে রাখার এক মাস পর মাটিগুলো নিহতের স্বজনদের দেওয়া হবে যেগুলো ব্যবহার করে স্বজনরা ফুল, শাকসবজি বা গাছ লাগাতে ব্যবহার করতে পারবেন।
মার্কিন সংস্থা রিকমপ্রোসের মতে, এই পদ্ধতি শ্মশান বা ঐতিহ্যগত দাফনের তুলনায় এক টন বেশি কার্বন সংরক্ষণ করতে পারে। কার্বনডাইঅক্সাইডের নির্গমন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটি প্রধান কারণ। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে গ্রীনহাউসের প্রভাব কমিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা ঠিক থাকতে সাহায্য করবে।
হিউম্যান কম্পোস্টিং-এর পক্ষের গবেষকরা বলছেন, এটি কেবল যে পরিবেশবান্ধব তা কিন্তু নয়। এটি কবরস্থানের জায়গাও কম লাগাতে সাহায্য করবে।
তবে নিউইয়র্ক রাজ্যের ক্যাথলিকরা আইনটির বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে মানবদেহকে “গৃহস্থালীর বর্জ্য” হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
এদিকে উদ্বেগ রয়েছে কম্পোস্টিংয়ের খরচ নিয়েও। কিন্তু ফার্ম রিকমপোজ বলছে খরচ টড়বে প্রায় ৭ হাজার ডলার। যেখানে ন্যাশনাল ফিউনারেল ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন বলছে ২০২১ সালে দাফনের জন্য গড় খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ডলার।
প্রসঙ্গত, সমগ্র সুইডেনজুড়ে হিউম্যান কম্পোস্টিং বৈধ। যুক্তরাজ্যেও প্রাকৃতিক দাফন, যেখানে একটি মৃতদেহকে কফিন ছাড়া বা বায়োডিগ্রেডেবল কফিন দিয়ে কবর দেওয়া হয়— এমন বিষয়ের অনুমতি দিয়েছে।
আইআই/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন