শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

বেপরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বগাবিলি সেতু

শুক্রবার, মার্চ ৪, ২০২২

প্রিন্ট করুন

এম মতিন: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় সুযোগে বেড়েছে ইছামতী নদী থেকে বালু উত্তোলন। সেতুর আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও তা না মেনে প্রতিনিয়ত বালু তুলছেন একটি চক্র। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম উত্তর রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি সেতু।

সরজমিনে দেখা গেছে, বালু উত্তোলনের ফলে বগাবিলি সেতুর ৩টি পিলারের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর ৩টি পিলারের নিচে সৃষ্টি হয়েছে স্কাউরিং। এসব কারণে সেতুটির ভারবহণ ক্ষমতাও অনেকাংশে কমে গেছে। সেতুর উপর কোন মালবাহী গাড়ী উঠলেই সেতুটি কেঁপে উঠে এবং গাড়িগুলোকে পার হতে হচ্ছে খুব সাবধানে। এমন পরিস্থিতিতে যে কোন সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতির ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ইছামতি নদী ওপর নির্মিত বগাবিলি সেতুর দুই পাশের আধা কিলোমিটার মধ্যে ৪টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এমনকি অনেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজারের সাহায্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন ইটভাটা, পুকুর, বসতভিটা ভরাটসহ বালু বিক্রি করছেন। এতে করে হুমকির মুখে পাড়েছে সেতুর পিলার। কোনোভাবেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানছেন না বালু উত্তোলনকারীরা। সেতুর এত কাছ থেকে বালু তোলা ঠিক হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস বলেন, ‘প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইনা। তবে কেউ কেউ বেপরোয়া হয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও করেছি। অনেককে আটক, জারিমানা, খননযন্ত্র পোড়ানো হয়েছে। বগাবিলি সেতুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলেই কোন ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইছামতি নদীর কারণে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি গ্রামটি উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উভয় পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সচল রাখার জন্য বগাবিলি গ্রামের মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০০৯ সালে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদীর ওপর ১২৬. ২৫ মিটির দীর্ঘ বগাবিলি সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চট্টগ্রামের কনসুনেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০১৩ সালে বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সেতুটি উদ্ভোধন করেন।

মতিন/আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন