শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

বুধবার, মার্চ ৯, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। স্থানীয় বাজারে তেল-গ্যাসের দাম ব্যাপকভবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও রাশিয়াকে সাজা দিতে বাইডেন প্রশাসনের এ পরিকল্পনায় সমর্থন করেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ আইনপ্রণেতাই। 

অন্যদিকে, রাশিয়া আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ হলে তারা পশ্চিমা বিশ্বে গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। মস্কো ভালোভাবেই জানে, পশ্চিমাদের এ ধরনের পদপেক্ষ রুশ অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
অবশ্য ইউক্রেন শুরু থেকেই রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানি নিষিদ্ধ করতে পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আসছে। তাদের এ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের মেনে নেওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলো। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সোমবার (৭ মার্চ) একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ন্যাটোর সদস্য হতে চাই না : জেলেনস্কি

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আর ইচ্ছুক নয় ইউক্রেন, এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একইসঙ্গে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল নিয়েও আলোচনায় রাজি হয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি আর ন্যাটোর সদস্য হতে ইচ্ছুক নন। তিনি বুঝে গেছেন, ইউক্রেনকে গ্রহণ করতে ন্যাটো প্রস্তুত নয়। দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, আমি এমন একটা দেশের প্রেসিডেন্ট থাকতে চাই না, যারা হাঁটু গেড়ে ভিক্ষা চায়।

ইউক্রেনে সরকার উচ্ছেদ লক্ষ্য নয়: রাশিয়া

ইউক্রেনে ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের লক্ষ্য নিয়ে রুশ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। ইউক্রেন দখলের কোনো ইচ্ছা রাশিয়ার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

বুধবার মস্কোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাখারোভা বলেন, রুশ সেনাদের লক্ষ্য ইউক্রেনের সরকারকে উচ্ছেদ করা নয়। ইউক্রেন দখল করা বা দেশটির বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো উদ্দেশ্য নিয়েও সেনারা এগোচ্ছে না।

মারিয়া জাখারোভার এই অবস্থান অবশ্য মস্কোর এতদিনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ এতদিন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুসহ রুশ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা এতদিন বলে আসছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য দেশটিকে ‘নাৎসীমুক্ত’ করা।

এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করার পর দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে গত দুই মাস রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রেখেছিল মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু এই দু’মাসের প্রায় প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে গেছে— যে কোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রুশ বাহিনী।

রাশিয়ার উপর যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে যুক্তরাজ্য। রাশিয়ার বিমান ও মহাকাশ প্রযুক্তির ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে দেশটি। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা রাশিয়ার বিমান আটক করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার কোনো বিমানের প্রবেশ, অবতরণ বা চলাচল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া ও ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠরা আরও বেশি অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বেন বলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস জানিয়েছেন। 
তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু নয় বলে বিবিসি নিউজনাইট পলিটিক্যাল এডিটর নিক ওয়াট জানিয়েছেন। কারণ আগেই সেদেশের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  কিন্তু নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সেই প্রাইভেট জেট বিমানগুলোকে লক্ষ্য করা হবে, যেগুলো তৃতীয় কোনো দেশে তালিকাভুক্ত এবং রাশিয়ান ধনকুবেররা ব্যবহার করেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

পশ্চিমা দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি রাশিয়ার

রাশিয়া জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে কাজ করছে তারা। রাশিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিমাদের ওপর আরোপিত রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা হবে কঠোর। আর এর প্রভাব পড়বে পশ্চিমাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে। ইউক্রেনে হামলা করার পর রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমাদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে রাশিয়া। 

এখন রাশিয়াকে যেহেতু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পশ্চিমারা চাপে রেখেছে। তাই রাশিয়াও এখন তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের চাপে ফেলতে চায়। এ ব্যাপারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দিমিত্রি বিরিচেভস্কি বলেন, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর, উদ্বেগজনক ও সংবেদনশীল।

অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়া

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার একদিনের মাথায় বুধবার এমন অভিযোগ করেছে রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়টি মস্কোর পর্যালোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। 

রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে সবচেয়ে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা দেশটির প্রায় পুরো আর্থিক ও কর্পোরেট ব্যবস্থাকে আক্রান্ত করেছে। রুশ জ্বালানি আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে পেসকভ বলেন, রাশিয়া একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল এবং থাকবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার একটি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মস্কো এখন খুব গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করবে জানান পেসকভ।

যুদ্ধ বন্ধে অনেকের সাথে কথা বলেছি: এরদোগান

ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাধানের পথ তৈরি করতে তুরস্ক জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০ দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। 

মঙ্গলবার বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আমি ২০ দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি।  এই প্রচেষ্টা জারি রেখেছি। এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি আমরা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। এরদোগানকে উদ্ধৃত করে ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলমান যুদ্ধ বন্ধে সমাধানের পথ তৈরি করতে তুরস্ক জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কিয়েভের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে তীব্র লড়াই চলছে

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমদিকে রুশ বাহিনীর অব্যাহত আক্রমণের মুখে প্রচণ্ড লড়াই চলছে। বিশেষ করে পশ্চিম দিকে তীব্র লড়াই হচ্ছে। সেখানে ইউক্রেনের চেকপয়েন্টগুলোর ওপর অব্যাহতভাবে মর্টারের গোলাবর্ষণ হচ্ছে, তবে ইউক্রেনের সৈন্যরা বলছে তারা তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং রুশ বাহিনীর অগ্রাভিযান ঠেকিয়ে দিচ্ছে । ইউক্রেনের পার্লামেন্টের একজন সদস্য ইনা সোভসান বিবিসিকে বলেন, রুশরা উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি ঘটাতে হিমশিম থাচ্ছে।  ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ আরো বলছে, সংঘাতে এ পর্যন্ত ৫২টি শিশু নিহত হয়েছে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন