সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, মার্চ ১৫, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক : শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে পুরো বাংলাদেশ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই পূরণ হচ্ছে এ শতভাগ বিদ্যুতায়ন। আগামী ২১ মার্চ পটুয়াখালীর পায়রাতে দেশের প্রথম আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল ও সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সশরীরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পুরণ করতে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ২০০৯ সালে দেশের ৪৭ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল। এরপর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ৩ কোটি ১১ লাখ নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন। এর ফলে দেশের ৯৯.৮৫ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পায়রাতে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হচ্ছে এবং দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। যেখানে গ্রিড লাইন নেই বা নির্মাণ সম্ভব নয়, এ রকম প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেল এবং সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে- সন্দিপ এবং ভোলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০০৯ সালে দেশে ২৭টি বিদুৎকেন্দ্র ছিল। মোট উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। গত ১৩ বছরের মধ্যে দেশে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে ১৪৮টি। এক যুগ আগে যেখানে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো গড়ে ৩ হাজার থেকে ৩হাজার ৫০০ মোগাওয়াট। বর্তমানে তা বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ২৭ এপ্রিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৯২ মেগাওয়াট।

এদিকে, সম্প্রতি সরকার যে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি করেছে, তার মধ্যে সবার আগে উৎপাদনে এসেছে পায়রা। পায়রাতে প্রতিটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের করে মোট ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াটের দুটি কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি করে ইউনিট থাকবে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। নির্মাণ ব্যয়ের এই অর্থ দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে বিসিপিসিএলের সঙ্গে ২০১৬ সালের মার্চে ইপিসি (প্রকৌশল, আহরণ ও নির্মাণ) চুক্তি হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিইসিসি ও এনইপিসির। কেন্দ্র্রটির প্রথম দুটি ইউনিট নির্মাণে খরচ পড়েছে প্রায় ১২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম দুটি ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে। বাকি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৪ সালে শুরু হওয়ার কথা। এ কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা আসছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রতিটি ইউনিটের জন্য দৈনিক ৬ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লা দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম গড়ে ইউনিটপ্রতি সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় টাকা পড়ছে। সঞ্চালন লাইন নির্মাণ না হওয়ায় কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রথম দুটি ইউনিটের মোট ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে উৎপাদন করা হচ্ছে গড়ে ৬০০ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ পায়রা থেকে গোপালগঞ্জে যাচ্ছে। সেখান থেকে তা আবার আশপাশের জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার আমিনবাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একটি লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। যার কাজ শেষ হলে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হবে।

তাছাড়া বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হজার ৩২০ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রটি থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাপানের অর্থায়নে সরকারি সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এক সময় ঢাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হতো, সেসব এখন ইতিহাস। বিদ্যুৎ বাংলাদেশের উন্নয়নকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গেছে। পায়রার মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে আরও বহুদূরে নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কারণেই বিদ্যুৎ ঘাটতির বাংলাদেশ থেকে আমরা এখন বিদ্যুৎ স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন