ঢাকা: বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘মুজিব মানে মুক্তি’ আলোচনা সভায় চেয়ারম্যান মো. শহীদুল হক ভুঁঞা বলেন ‘বঙ্গবন্ধু “বিশ্ব নেতা, বিশ্ব মানবতার মহান নেতা ও রাজনীতির কবি’।
বিএসইসির প্রধান কার্যালযের সভা কক্ষে রোববার (২০ মার্চ) বিকালে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি সরাসরি ও অনলাইন জুম মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. একে মহিউদ্দিন আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহীদুল হক ভুঁঞা আরো বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় তার বয়স যখন সাত বছর, সেই সময়েই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ সম্পর্কে জানেন। আর বর্তমানে তিনি ‘বঙ্গবন্ধুকে, বিশ্বনেতা, বিশ্ব মানবতার নেতা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি তার সুদীর্ঘ কর্ম জীবনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জানার চেষ্টা করেছেন। ৭০ এর নির্বাচন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ তারপর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। তিনি কর্মজীবনে ‘বাংলার বাণীসহ’ বিভিন্ন সংবাদপত্রে কাজ করার সুবাদে ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা’ সম্পর্কে জানার সৌভাগ্য হয়েছে। এখনো তিনি অবসর সময়ে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে চর্চা করে থাকেন।
মো. শহীদুল হক ভুঁঞা ১৯৭১ এর ৭ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে’ ‘ঐতিহাসিক মহাকাব্য’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা কোন সাধারণ ভাষণ না। এ ভাষণে সারা বিশ্বের নিপীড়িত মেহনতি মানুষের জন্য একটা মেসেজ আছে। এ ভাষণের প্রত্যেকটি লাইনে বাঙালি জাতিসহ সারা বিশ্বের মেহনীত নিপীড়িত মানুষের দাবির কথা উঠে এসেছে, দুঃখ-কষ্টের কথা, পাকিস্তানী শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহবান জানানো হয়েছে। পাকিস্তানী পুঁজিবাদী ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশনা আছে। এ ভাষণে বঙ্গবন্ধু, ‘বাঙালি জাতি ও সারা বিশ্বের মুক্তিকামী নিপীড়িত মানুষের মুক্তির কথা’ বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ সেই কালজয়ী অমর ঐতিহাসিক কবিতা। এ আমাদের স্বাধীনতার অমর বাণী ও স্বাধীনতার প্রকৃত ‘ঘোষণা’। এ দীপ্ত ঘোষণার পর সারা বাংলাদেশের মানুষ মূলত: স্বাধীন হয়ে যায়। পাকিস্তানী পতাকা পুড়িয়ে ফেলে উড়াতে থাকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। বাঙালী লাভ করে তার আকাঙ্খিত স্বাধীনতার স্বাদ। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর শাসন চালু হয়ে যায। সবাই তার নির্দেশে চলতে থাকে। সারা বাংলাদেশে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘নতুন পতাকা’।
মো. শহীদুল হক ভুঁঞা বলেন, ‘এ ভাষণের পর ঢাকা শহরসহ পূর্ব বাংলা সে দিন হতে শেখ মুজিবের কথায় চলেছে। বাংলাদেশ সে দিনই স্বাধীন হয়ে গেছে। পাকিস্থানের কোন অস্তিত্ব ছিল না। বাংলাদেশে তিন রঙের পতাকা উড়তে দেখা যায়- সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্য, লাল সূর্যের উপর বাংলাদেশের সোনালী রঙের ম্যাপ।
এরপর শুরু হল আন্দোলন-সংগ্রাম। প্রতিদিনই আন্দোলন হত, গুলি হত, মানুষ প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে। ১৯ মার্চ গাজীপুরের মানুষ লাঠিসোঠা ও গাদা-বন্দুক নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এ যুদ্ধে ১৯ জন নিহত ও বহু আহত হওয়ার খবর জানা যায়। গাজীপুরে ১৯ জনের নামে একটা ফলক আছে। ১৯৭১ এর ১৯ মার্চ থেকে গাজীপুরে ‘গাজীপুর মুক্ত দিবস’ পালন করে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বরবর হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আদেশক্রমে ‘স্বাধীনতা ধোষণার’ কথা উল্লেখ করে বিএসইসির চেয়ারম্যান দেশি-বিদেশি পত্রপত্রিকা, বই-পুস্তুক ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার রেফারেন্স উল্লেখ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণের কোন সুযোগ নেই।
১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট হতে ১৯৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশের এক কালো অধ্যায়। ‘বঙ্গবন্ধু’ এ দেশে নিষিদ্ধ হয়ে গেলেন। তাকে নিয়ে কোন কথা বলা যেত না, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন চর্চা করা যেত না। নিহত বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি পর্যন্ত এ দেশে পাওয়া যায় না। এমনি লজ্জায় এ জাতি পড়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর জার্মানীর চ্যান্সেলর বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবকে হত্যাকান্ডের পর বাঙালিকে আর বিশ্বাস করা যায় না।’ অর্থাৎ সারা বিশ্বে বাঙালি একটা বিশ্বাসঘাতক জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর চর্চা বন্ধ হয়ে গেলে, ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ হয়ে গেল। ‘জয় বাংলার’ পরিবর্তে এল ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। ‘বাংলাদেশ বেতার’ হয়ে গেল ‘রেডিও বাংলাদেশ’ যা আগে ছিল রেডিও পাকিস্থান। এভাবে সব জায়গায় পরিবর্তন নিয়ে আসা হল। শত শত মুক্তিযোদ্ধা-সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অফিসারকে প্রহসনের বিচার করে হত্যা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা সিভিল সার্ভেন্ট এইচটি ইমামসহ (আনকোড) গ্রেফতার ও জেলে পাঠানো হল। এভাবে চলে ১৯৯৬ পর্যন্ত। দেশটা রসাতলে নিয়ে গেল তারা। আজকে বঙ্গবন্ধুকে, জানার বুঝার কিছু ডকুমেন্টস আমরা পাচ্ছি, শেখ হাসিনার শাসন আমলে। সেই সময়ে চুঁইয়ে পড়া অর্থনীতির কারণে প্রতিটি গ্রাম ছিল অবহেলিত, দূর্ভিক্ষ, দারিদ্র, খরার বেড়াজালে বন্ধী। আর এখন প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ গিয়েছে, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট হয়েছে। গ্রামে অটো চলছে। দারিদ্রের হার হ্রাস হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। ‘বাংলাদেশ’ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এর পিছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্ব। পিতার পরে সন্তানের হাত দেশ, একই যত্নে লালিত ও পালিত হচ্ছে। এখন দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।’
সভায় বিএসইসির পরিচালক (অর্থ) মো. মনিরুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বদরুন নাহার, সচিব একেএম আনোয়ার মোর্শেদ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস’ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন