রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া রাস্তায় পণ্যবাহী পরিবহন থামানো যাবে না

রবিবার, এপ্রিল ১০, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চট্টগ্রাম: দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির উদ্যোগে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বিষয়ক মত বিনিময় সভা শনিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন এন্ড ফাইন্যান্স) মো. ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু রায়হান দোলন, সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল ওয়ারিশ, চেম্বারের সহ সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বারের পরিচালক একেএম আক্তার হোসেন, অঞ্জন শেখর দাশ ও মো. রকিবুর রহমান (টুটুল), খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ, সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী, মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সালামত আলী, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, আখতারুজ্জামান সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহার সাবেরী, পুলিশ প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো সায়েম বক্তব্য দেন।  

মাহবুবুল আলম বলেন, ‘করোনা ভাইরাস অতিমারীর দুই বছর ও সম্প্রতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্য পৃথিবীব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন নতুন করে লকডাউন দেয়ার কারণে তৈরি পোশাক খাতের অনেক কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এক কোটি মানুষকে টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রদানে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। চিটাগাং চেম্বারও প্রতি বছরের মত ভর্তুকি মূল্যে চাল, চিনি ইত্যাদি বিক্রি করছে। তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মিলার, পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা জরুরী। বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র মিল রয়েছে। কাজেই আমদানি উৎসাহিত করতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে ফিনিশড প্রোডাক্ট আমদানি করা যায়। এছাড়া ডিউটি স্তর সামঞ্জস্য করা হলে আমদানি বৃদ্ধি পাবে ও বর্তমান সংকট কেটে যাবে। ঈদের ন্যায় উৎসবের প্রায় ৩-৬ মাস আগে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মত বিনিময় আয়োজন করে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। পাইকারী ও খুচরা সব ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের তালিকা প্রকাশ ও উভয়ের মধ্যে দামের পার্থক্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনসহ সবাই সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত। ১৩ টন ওজন বাধ্যবাধকতার কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি মিল গেইটে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয়সহ এসও, পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে জোরদার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে কাজ করার কথা জানান।

সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রাখার লক্ষ্যে সচেতনতা ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।  

একেএম আক্তার হোসেন দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস করা, চট্টগ্রাম থেকে আইপি কোয়ারেন্টাইন ইস্যু করা ও যথাসময়ে বিএসটিআই সনদ দেয়া দানিব জানান।

অঞ্জন শেখর দাশ রপ্তানির বিপরীতে ডলারের দাম পাওয়া যায় প্রায় ৮৫ টাকা ও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের মূল্য পরিশোধ করতে হয় প্রায় ৯০ টাকা। তিনি এ পার্থক্য দূর করা এবং এইচএস কোড ভুল হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা প্রত্যাহারের আহবান জানান।

মো. রকিবুর রহমান (টুটুল) রমজানে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মৌসুম নয় এমন কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনার অনুরোধ জানান।  

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে ভোগ্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইনে ঘাটতিজনিত অস্বস্তিকর বাজার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোক্তা সাধারণ যাতে সহনীয় ও ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যমূল্য কিনতে পারে, এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে যে কেউ কোন পণ্য আমদানি করতে পারে। তবে দেশী পণ্যের সুরক্ষা ও কর কাঠামোর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়নের জন্যও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কাজ করতে হয়।’

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাসকরণের জন্য চট্টগ্রাম থেকে আইপি ইস্যু/নবায়ন যাতে করতে পারে- এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানান এএইচএম সফিকুজ্জামান।

তিনি কিছু পণ্যের উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত কিছু অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে আগামীতে যাতে কোন অনিয়ম হতে না পারে ও মনিটরিং করার জন্য একটি এ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি ব্যবসায়ীদের দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি মন্তব্য করে তাদের যাতে অহেতুক মুনাফালোভী, সিন্ডিকেট সৃষ্টিকারী না বলে ও মিডিয়া যাতে ইতিবাচক নিউজ করে এ ব্যাপারে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।  

মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মহাসড়কে কোন ধরণের হয়রানি যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যে কোন অভিযোগ পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।’

মো. আবু রায়হান দোলন বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ১৮টি ও মহানগরে ছয়টি মনিটরিং টিম কাজ করছে।’

মো. আবদুল ওয়ারিশ বলেন, ‘ব্যবসায় নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুুলিশ কাজ করছে। যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া রাস্তায় কোন পণ্যবাহী পরিবহন থামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

অন্য বক্তারা ফিনিশড প্রোডাক্ট ও আনফিনিশড প্রোডাক্ট আমদানির ক্ষেত্রে ডিউটি স্ট্রাকচার যৌক্তিকহারে নির্ধারণ, পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ করা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা, অতীতের আইনগুলো যুগোপযোগী করা, চাহিদার পূর্বাভাস প্রাক্কলন, বেশী বেশী আমদানি উৎসাহিত করা, মিল থেকে মেমো অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা, যানজট নিরসন ও অস্থায়ী দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, আমদানিকারকদের তালিকা প্রস্তুত করা, চাহিদার সঠিক তথ্য সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব প্রদান, তিন মাস আগে শুল্ক সমন্বয় করা, লোকাল এলসির ক্ষেত্রে দুই শতাংশ কর প্রত্যাহার করা, নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে সারা বছর ভোগ্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখা ইত্যাদি দাবি তুলে ধরেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার, চেম্বারের পরিচালক মো. অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), সাকিফ আহমেদ সালাম, মো. ইফতেখার ফয়সাল, এসএম তাহসিন জোনায়েদ, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাসিরুল আলম (ফাহিম), চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, চেম্বারের সাবেক পরিচালক কামাল মোস্তফা, আরএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন