শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

সিএমএসএফে অর্থ ও শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমা না হওয়ায় অসন্তোষ অডিট কমিটি

শনিবার, মে ১৪, ২০২২

প্রিন্ট করুন

ঢাকা: ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অর্থ ও শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমা না হওয়ায় ইস্যুয়ার কোম্পানিদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফান্ডের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এএএমসি)।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্ঠিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ  ও শেয়ার এ ফান্ডে  আসার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা ও বর্তমান মার্কেট ভ্যালুতে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এ ফান্ডে জমা হয়েছে; যা খুবই নগণ্য।  নিরপেক্ষ অডিট কমিটির এক সভায় কমিটির প্রধান মো আবদুর রউফ এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলো সিএসএফের ফান্ডে অর্থ ও শেয়ার ট্রানস্ফার না করলে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা; তা কিভাবে আনা যায়, সে বিষয়ে মনিটরিংসহ সার্বিক তত্বাবধান করা হবে।’

অডিট কমিটির অন্য সদস্যরা একেএম দেলোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমএ মহি, শাহেদা খানম, মুহাম্মদ তাজদিকুল ইসলামও একমত পোষণ করেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্ঠিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এ অর্থ এক সাথে করে বাজারের উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিএসইসি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামে বিশেষ এ তহবিল গঠন করেছে। সেই সাথে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস, ২০২১ গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করে। ফান্ডটির রুলস অনুসারে, তা পরিচালনার জন্য দশ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মো নজিবুর রহমান ফান্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিএমএসএফ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও একটি দক্ষ পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সিএমএসএফ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ইস্যুকারীর কাছ থেকে অদাবীকৃত ও অবন্টিত নগদ বা স্টক ডিভিডেন্ড, অফেরত পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থ ও অ-বরাদ্দকৃত রাইট শেয়ার স্থানান্তর করার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নগদ ও স্টকের অভিভাবক হিসাবে কাজ করছে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশে দেশের সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির মাধ্যমে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীলতায় সিএমএসএফ ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামে একটি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করেছে। এ ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা, যার ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য দশ টাকা। সিএমএসএফ স্পন্সর হিসেবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

এ ছাড়াও বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পত্তি এ ফান্ডের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সিএমএসএফ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮০ টাকার অমীমাংসিত দাবি নিষ্পত্তির আবেদন নিয়েছে ও ইতিমধ্যে ২১ লাখ ৩৩ হাজার ২২৬ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে; যা মোট দাবির ৯৩ শতাংশ।

মো নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় কাজ করছি ও সাথে ক্যাডার এবং বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ নিশ্চিত করার নিমিত্তে যথাযথ যাচাই সাপেক্ষে অবিলম্বে দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখি, সিএমএসএফের কার্যক্রমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন