চলমান ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘চীন তাইওয়ানে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না। এর জবাবে দ্বীপটি রক্ষার জন্য তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে।’ এর জবাবে চীন বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগুন নিয়ে খেলছে।’ খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির।
এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে জো বাইডেন এখন জাপানে অবস্থান করছেন। এর আগে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া সফরে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জো বাইডেন প্রথম বারের মত এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো সফর করছেন। প্রথম এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (২০ মে) দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছান বাইডেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওসানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী পার্ক জিন।
জাপান সফরে বাইডেন তার বক্তব্যে তাইওয়ান পরিস্থিতির সাথে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার তুলনা টানেন, যার উত্তরে বেইজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মে) রাজধানী টোকিওতে কৌশলগত নিরাপত্তা জোট কোয়াডের বৈঠকে অংশ নেবেন বাইডেন। এর আগে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সাথে বৈঠক করেন। পরে দুই নেতা সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন জানান, তাইওয়ানের ভূখণ্ডে চীন সামরিক আগ্রাসন চালালে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ‘এক চীন নীতি’ মেনে নিয়েছি। এ সংক্রান্ত চুক্তিও করেছি। কিন্তু চীন যদি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তাহলে সেটা হবে অগ্রহণযোগ্য।’ তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন বাইডেন।
চীন মনে করে তাইওয়ান তাদের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি প্রদেশ ও মূল ভূখণ্ডের সাথে তাদের ফের সংযুক্ত হওয়া উচিত। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জোর দিয়ে বলেন, ‘তাইওয়ান চীনের মূল ভূখণ্ডের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ…সেখানে কোনরকম আপস বা ছাড়ের সুযোগ নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাইওয়ানের কোন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ানের সাথে সম্পর্কবিষয়ক এক ধারার অধীনে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে। তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট নামে এ ধারায় বলা আছে, ‘তাইওয়ান যাতে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিকে সহযোগিতা করবে।’
চীনকে সতর্ক করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বেইজিং এখন আগুন নিয়ে খেলছে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে মস্কোকে দীর্ঘ মেয়াদে ভুগতে হবে। তাইওয়ানের অবস্থা ইউক্রেনের মত হলে চীনকেও এমন মূল্য দিতে হবে।’
মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে তাইওয়ান। সোমবার (২৩ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাইওয়ান প্রণালীতে চীন ইতিমধ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে তাইওয়ানের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় আমাদের সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় বদলায়নি।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের।’ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও ওয়েনবিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তাইওয়ান হল চীনের অখণ্ড অংশ। এটা চীনের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার মৌলিক স্বার্থে আপস বা ছাড় দেয়ার কোন স্থান নেই। দেশের ১৪০ কোটি জনসাধারণকে সাথে নিয়ে সব সময় নিজের স্বার্থকে রক্ষা করবে চীন ‘
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখে চীন। এ কারণে দ্বীপটির কাছেই গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তাইওয়ান চীনের এ ধরনের কোন বিষয়ের কথা জানায়নি।
সিএন/এমএ



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন