সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলার মামলায় শাস্তি হয় না কারো!

রবিবার, জুন ৫, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে নির্বিচারে বন্দুক হামলা বা গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা নতুন নয়। তবে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে গেছে বন্দুক হামলার ঘটনা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে বন্দুক বেচা-কেনার পরিমাণও। নির্বিচারে বন্দুক হামলা থেকে রক্ষা পায় না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৪ মে ঘটেছে বন্দুক হামলার ঘটনা। বেশির ভাগ বন্দুক হামলা বা গুলির ঘটনায় হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর গুলিতে মারা যান হামলাকারী। এ জন্য এসব হামলার ঘটনায় মামলাও তেমন একটা হয় না।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলা বা গুলির ঘটনায় বিভিন্ন সময় কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার রায়ে কখনো কারো সাজা বা শাস্তি হয় নি। অনেক সময় রায়ে মামলা খারিজ করে দেন আদালত অথবা অনেক সময় আপসে মামলা নিষ্পতি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের কলম্বাইন হাইস্কুলে দুই শিক্ষার্থীর হামলায় এক শিক্ষকসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল। এরপর স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি ইমিউনিটির কারণ দেখিয়ে প্রায় সবগুলোই খারিজ করে দেয়া হয়। শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে নিহত শিক্ষকের মেয়ের করা মামলাটি চলেছিল। শিক্ষকের মেয়ের অভিযোগ ছিল, হামলাকারীদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও পুলিশ তার বাবার চিকিৎসা করতে চিকিৎসকদের সেখানে যেতে দেয় নি৷ মামলাটি সাড়ে ১৩ কোটি টাকায় রফা হয়েছিল। নিহতদের পরিবারেরাও দুই হামলাকারীর পরিবার ও হামলাকারীদের বন্দুক পেতে সহায়তা করা দুই ব্যক্তির সাথে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় আপস করেছিল।

২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের রেড লেক সিনিয়র হাইস্কুলে সাবেক শিক্ষার্থী জেফ ওয়াইজের হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন কয়েকজন। হতাহতদের পরিবার স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে নয় কোটি টাকা ও স্কুলে সংকটকালীন সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করা একটি কোম্পানির সাথে ১৩ কোটি টাকায় আপস করেছিলেন।

২০০৭ সালের ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থী সেয়ুং-হুইয়ের হামলায় ৩২ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছিলেন। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে ভার্জিনিয়া সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, তৃতীয় পক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার আইনি দায়িত্ব স্কুলের নয়।

কানেক্টিকাট রাজ্যে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে ২০১২ সালে অ্যাডাম লানজার গুলিতে ছয় ও সাত বছর বয়সি ২০ জন শিশু ও ছয়জন স্টাফ মারা যান। নিহত পাঁচ শিশু ও চার স্টাফের পরিবার হামলায় ব্যবহার করা বুশমাস্টার এআর-১৫ রাইফেল প্রস্তুতকারক রেমিংটন আর্মসের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। পরে সেটি সাড়ে ৬০০ কোটি টাকায় আপস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গুলির ঘটনায় কোন অস্ত্র প্রস্তুতকারকের আপসে যাওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা।

ফ্লরিডা রাজ্যে ২০১৮ সালে মার্জোরি স্টোনম্যান ডুগলাস হাইস্কুলে সাবেক শিক্ষার্থী নিকোলাস ক্রুজের হামলায় তিনজন স্টাফ ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। হামলার সময় স্কট পেটারসন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা স্কুলে দায়িত্বরত অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু গোলাগুলি চলার সময় তিনি বাইরে থাকায় ব্যাপক সমালোচিত হন। পরে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার মামলা করা হয়। এ বছরের শেষে এ মামলায় বিচার শুরু হওয়ার কথা।

টেক্সাস রাজ্যের সান্তা ফে হাইস্কুলে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী দিমিত্রিয়স প্যাগুর্টজিসের শটগান ও রিভলবার দিয়ে চালানো হামলায় দশজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। নিহত দুইজনের পরিবার হামলাকারীর পরিবারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিরাপদে না রাখার অভিযোগে মামলা করেছে। এ ছাড়া বয়স পরীক্ষা করে না দেখে অস্ত্র বিক্রি করায় অস্ত্র বিক্রির অনলাইন পোর্টাল লাকিগানার ডটকমের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে নিহত কয়েকজনের পরিবার। দুইটি মামলারই প্রক্রিয়া শুরুর অপেক্ষায় আছে।

গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্তোনিওর ইউভালডি শহরের রব এলিমেন্টারি স্কুলে ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি করে ১৯ শিশু শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষককে হত্যা করে। এরপর পুলিশের সাথে গুলি বিনিময়ে ওই হামলাকারীও নিহত হয়। এ ঘটনায় কোন মামলা হয় নি।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন