শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে যোগ দিবে বাংলাদেশ!

সোমবার, জুন ১৩, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক: গত মে মাসে যাত্রা শুরু হওয়া ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে সংলাপে বাংলাদেশকে অবহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে যোগ দিবে কিনা সে বিষয় খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বৈশ্বিক এই জোটে এই ভারত, জাপানসহ এই অঞ্চলের ১৩ দেশ যোগ দিয়েছে। এদিকে, ওয়াসিংটনে দুইপক্ষের মধ্যে গত ২ জুন উচ্চ পর্যায়ের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপ শেষে দুইপক্ষ যৌথ বিবরনীতে জানিয়েছে, অর্থনৈতিক এই কাঠামোর আওতায় বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখতে এবং ডিকার্বোনাইজেশন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো তথ্য জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।

এই ইস্যূতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে আমরা স্টাডি করছি। সেখানে দেখলাম চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হচ্ছে, সাপ্লাই চেঞ্জ, এটি আমরাও চাই যাতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয়। এই ইস্যূতে আমাদের কোনো দ্বিমত নাই। দিতীয় হচ্ছে ডাটা ম্যানেজমেন্ট, এই বিষয়ে আমাদের আরো বুঝতে হবে। ডাটা ম্যানেজমেন্ট কী সেটা আমাদের আরো জানতে হবে। তৃতীয় হচ্ছে দুর্নীতি এবং অর্থ পাচার, এখানে বলে রাখা ভালো অনেক মানুষ দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে নিয়ে যায়, সেখানে অনেক অর্থ নিয়ে গেলে ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা পাওয়া যায়। আমরা ওইসব দেশের কাছে পাচার করা অর্থের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা প্রাইভেসি আইনের কথা বলে তথ্য দেয় না।

তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে বলা হয়েছে যে তারা এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চায়, এটা ভালো খবর। আমরাও চাই না যে আমাদের দেশ থেকে অর্থ পাচার হোক। চতুর্থ হচ্ছে সমুদ্রে উন্মুক্ত নীতি, আমরাও এটা চাই। এক্ষেত্রে আমাদের নীতি হচ্ছে উন্মুক্ত, স্বাধীন, অর্ন্তমুখী এবং নিরাপদ সমুদ্র সবার জন্য নিশ্চিত করা। আমাদের বঙ্গপসাগর দিয়ে এশিয়া অঞ্চলের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য হয়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই এলাকায় আমরা উন্মুক্ত, স্বাধীন, অর্ন্তমুখী এবং নিরাপদ চলাচল চাই। এখানে যোগ দিতে আমাদের নীতিগত সমস্যা নাই। নীতিগত বিষয়ে বাইরে কী আছে আমি তা জানি না।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই ধরনের কাঠামো বা জোটে যোগ না দেওয়ার জন্য চীন বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২ জুন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক লিউ জিনসং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল অকাস, কোয়াড এবং সর্বশেষ ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিজের প্রতি ‘সেন্ট্রিজম (নিজেদের প্রতি কেন্দ্রিভূত)’ এবং ‘এক্সসেপশনালিজম (ব্যতিক্রম)’হিসেবে প্রকাশ করছে। এমন ধরণের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের নিজের জন্যে সম্মান বয়ে আনবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এই অঞ্চলের আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো ধ্বংস করে দেবে এবং দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে বলেও জানিয়েছে চীন। এক দেশের আধিপত্যের পক্ষে বিশ্বজুড়ে কোনো সমর্থন নেই, ব্লকভিত্তিক দ্বন্দ্বেরও কোনো ভবিষ্যত নেই এবং অল্প স্থানের জন্য উঁচু দেয়াল তৈরি ভাল কিছু বয়ে আনবে না। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকবে উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে মহাপরিচালক লিউ জিনসং আরো বলেন, চীন বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো পশ্চিমা বিশ্বের যুদ্ধের মানসিকতা এবং ব্লক রাজনীতিতে যোগ দিবে না। এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে পশ্চিমাদের যুদ্ধ এবং ব্লক রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন