শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মূলহোতা ফরিদপুরের বাবর: হাইকোর্ট

বুধবার, জুন ১৫, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফের ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) এমন কানো দপ্তর নেই যেখানে বাবর টেন্ডারবাজি করেননি। তার কারণে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মূলহোতাও তিনি।

মোহতেশাম হোসেন বাবরের জামিন আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। এসময় আদালত প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ ধরনের আসামিদের কেন জামিন দেওয়া হবে?’ এরপর আদালত তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।

শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন। শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেন, ফরিদপুরে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের সংঘটিত অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার মোহতেশাম। তিনি অন্যান্য আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। ছিলেন তাদের পরামর্শদাতা।

এসময় আদালতে মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তার চাঁদাবাজি করার কোনো দরকার নেই। পারিবারিকভাবে তারাও ধনী। তখন আদালত বলেন, যার আছে সেই তো করে। বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পারছি, আপনি (আসামি) একজন মন্ত্রীর (এলজিআরডির সাবেক মন্ত্রী) ভাই। আপনার লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি। আপনি ফরিদপুরে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মূলহোতা।

তখন মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, মন্ত্রীর ভাই ঠিক আছে। কিন্তু তিনি অপপ্রচারের শিকার। মিডিয়া দিয়ে বিচার করলে হবে না। এসময় আদালত বলেন, আপনি (মোহতেশাম) অপরাধী কিনা সেটা বিচারে প্রমাণিত হবে। কিন্তু নথিতে প্রাথমিক অপরাধের উপাদান রয়েছে। এসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, অর্থ পাচার তো একটা অর্গানাইজড ক্রাইম। এই অপরাধের পেছনে প্রধান হোতা হচ্ছেন মোহতেশাম। তার নেতৃত্বে এ সিন্ডিকেট চলেছে। তখন আদালত মামলার নথি দেখে বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।’ তখন আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘উনি তো মুল নেতৃত্বে।

শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিতে চাইলে বাবরের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করার আবেদন জানান। পরে আদালত তার আবেদনটি ডিসচার্জ ফর নন প্রসিকিউশন করে আদেশ দেন।

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন