শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

মিরসরাইয়ে নিখোঁজ ৩ পর্যটকের লাশ উদ্ধার

বুধবার, জুন ২২, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঝর্না দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (২১ জুন) দুপুর পর্যন্ত পৃথক পৃথক সময়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। নিহতরা হলো- ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত (২৪), ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) স্নাতক বর্ষের ছাত্র মাসুদ আহম্মেদ তানভীর (২৪) ও তাঁর ছোট ভাই তৌফিক আহম্মেদ তারেক (২০)।

মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাঠোয়ারি জানান, রোববার চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে দুই ভাই তানভীর ও তৌফিক তাদের অপর এক বন্ধু ইশতিয়াকের সঙ্গে মিরসরাই উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা দেখতে আসেন। ঝর্নার পানিতে গোসলে নামলে পানির স্রোতে তারা ভেসে যান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাপিত্তাছড়া এলাকা থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে দুয়ারু গ্রামের ছড়ার পাশে খালের পানিতে ভেসে ওঠে কলেজছাত্র তারেকের মরদেহ। এরপর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকালে ঝরনা থেকে চার কিলোমিটার দূরে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাগলখাইয়া খালে শাহেরখালী খালের মুখ থেকে ভাসমান অবস্থায় তারেকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ইশতিয়াকুর রহমান প্রান্ত ও মাসুদ আহম্মেদ তানভীরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ইজারাদাতা এবং ইজারা গ্রহীতা দুই পক্ষের। তারা আগে পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে ইজারা দেওয়া উচিত হয়নি। পর্যটকদেরও গাফিলতি ছিল। তাঁদের এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে গহিন পাহাড়ে এভাবে যাওয়া ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে আমরা মিটিং করে পর্যটন স্পটগুলো উপজেলা পরিষদের আওতায় নিয়ে আসব।

মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৪টি ঝরনা ও একটি লেক নিয়ে সরকারের বনবিভাগ গঠন করে বারৈয়াঢালা জাতীয় উদ্যান৷ এখানে বারবার প্রাণহানি ঘটলেও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি৷ এই ভরা বর্ষায় পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটকরা কীভাবে উঠেছে অথবা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কী পদক্ষেপ রেখেছে কর্তৃপক্ষ- এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ।

নাপিত্তাছড়া ঝরনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিএসআর-এর সত্ত্বাধিকারী আনিসুর রহমান বলেন, এ তিন ছাত্র টিকেট কেটে ঝরনায় প্রবেশ করেছে৷ সরকারিভাবে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই৷ তবে আমরা ঝরনার মুখে ঝরনায় চূড়ায় না ওঠার নির্দেশনামূলক কিছু প্ল্যাকার্ড লাগিয়েছি৷ পর্যটকদের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো গাইড রাখা হয়নি৷

এফআইটি/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন