চলমান নিউইয়র্ক ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী জেকেজি হেলথকেয়ার প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল চৌধুরীসহ ৮ আসামির ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজি হেলথকেয়ারের নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা ও বিপ্লব দাস।
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় আসামিদের ৩ বছর কারাদণ্ড, ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৬৬ ধারায় ৪ বছরের কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৪ মাস কারাভোগ করতে হবে। তাছাড়াও দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় ৪ বছরের কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৪ মাস কারাভোগ করতে হবে আসামিদের। সবগুলো সাজা একের পর এক কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়।
অন্যদিকে দণ্ডবিধির ১৭০/২৬৯/৪০৬/৪৬৫ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের এ ধারাগুলোতে খালাস প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষণার আগে এদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। পরে তাদের আদালতে ওঠানো হয় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। এদিন গোলাপী শাড়ি পরে পরিপাটি সাজে সাবরিনা কারাগার থেকে আদালতে আসেন। লোহার শিকের কাঠগড়ায় ঢুকেই সাবরিনা মাটিতে বসে পড়েন। এ সময় বিচারক রায় পড়া শুরু করলে সাবরিনা উঠে দাঁড়ান। বিচারক রায় ঘোষণার সময় সাবরিনা সহ অন্যান্য আসামিরা মনোযোগ দিয়ে রায় শোনেন।
এর আগে, গত ২৯ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত। গত ১১ মে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের নিকট ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। গত ২০ এপ্রিল সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেন। এসময় তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করেন। মামলাটিতে ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন আদালত। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।
জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় ডা. সাবরিনা ও তার স্বামীর প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশিরভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে। এ অভিযোগে ২০২০ সালের ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। এরপর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক লিয়াকত আলী।
এফআইটি/সিএন



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন