শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

রবিবার, জুলাই ৩১, ২০২২

প্রিন্ট করুন

হারারে, জিম্বাবুয়ে: হার দিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ শুরু করেছে সফরকারী বাংলাদেশ। শনিবার (৩০ জুলাই) সিরিজের প্রথম টি-২০তে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেয়া ২০৬ রানের টার্গেটে ছয় উইকেটে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশ।

নিজেদের মাঠ হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে প্রথম দুই ওভারে একটি চারে ১২ রান তুলে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার রেজিস চাকাবভা ও অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে প্রতিপক্ষের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আট রান করেন চাকাবভা। চাকাবভা ফিরলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন আরভিন। তাই পাওয়ার প্লেতে ৪৩ রান পায় জিম্বাবুয়ে। তবে সপ্তম ওভারের প্রথম বলে আরভিনের স্টাম্প ভাঙ্গেন বাংলাদেশের স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন। ১৮ বলে ২১ রান আসে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৩ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলকে সামনের দিকে টানেন ওয়েসলি মাধভেরে ও সিন উইলিয়ামস। তাদের ব্যাটে চড়ে তিন অংকে পা রাখার পথেই ছিল জিম্বাবুয়ে। স্পিনার নাসুম আহমেদের করা ইনিংসের ১২তম ওভারে একটি ছক্কা ও দুইটি চারে ১৭ রান তুলেন উইলিয়ামস। তবে ১৩তম ওভারে দলীয় ৯৯ রানে ভয়ংকর হয়ে উঠা উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ রান করেন উইলিয়ামস। তৃতীয় উইকেটে মাধভেরের সাথে ৩৭ বলে ৫৬ রান যোগ করেন উইলিয়ামস। উইলিয়ামসের বিদায়ে উইকেটে আসেন সিকান্দার রাজা। নিজের মুখোমুখি হয়ে প্রথম ছয় বল থেকে আট রান নেন রাজা। সপ্তম বলে পেসার তাসকিন আহমেদকে ছক্কা মারেন রাজা। এরপর থেকেই শুরু হয় রাজার চার-ছক্কার ঝড়। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ৩৪ ম্যাচের টি-২০ ক্যারিয়ারে সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মাধভেরে। এ জন্য ৩৭ বল খেলেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর রাজার সাথে দ্রুত রান তুলতে থাকেন মাধভেরেও। ১৭তম ওভারে ১৩, ১৮তম ওভারে ১৪ রান উঠে। আর ১৯তম ওভারের প্রথম তিন বলে একটি চার ও দুইটি ছক্কা মারেন রাজা। শরিফুলের করা ওই ওভার থেকে ১৯ রান আসে। ওই সময় তিন উইকেটে ১৮৬ রান ছিল জিম্বাবুয়ে। মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ১৯ রান তুলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২০০ পার করেন রাজা ও মাধভেরে। তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে ২৩ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান রাজা। আর শেষ তিন বলে দুইটি চার ও একটি ছক্কা মারেন রাজা। সাতটি চার ও চারটি ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন রাজা। নয়টি চারে ৪৬ বলে ৬৭ রান করে আহত অবসর হন মাধভেরে। চতুর্থ উইকেটে মাধভেরে-রাজার ৪৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২০৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ দলীয় রান জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ ৫০ রানে দুই উইকেট নেন।

২০৬ রানের বিশাল টার্গেটে সাবধানী শুরু ছিল বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে পাঁচ রান আসে। আর দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ভুল শটে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। চার রান করেন তিনি। শুরুতে মুনিমকে হারালেও দলকে চাপ অনুভব করতে দেন নি আরেক ওপেনার লিটন দাস ও তিন নম্বরে নামা আনামুল হক। জিম্বাবুয়ের বোলারদের উপর চড়াও ছিলেন লিটন। পঞ্চম ওভার পর্যন্ত ছয়টি চার মারেন লিটন। এ সময় টি-২০ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রান পূর্ণ করেন লিটন। সাবধানী থাকায় ষষ্ঠ ওভারে আনামুলের ব্যাট থেকে আসে প্রথম ছক্কা। এতে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেটে ৬০ রান পায় বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারের শেষ বলে রান আউট হন দারুন খেলতে থাকা লিটন। ছয়টি চারে ১৯ বলে ৩২ রান করেন তিনি। আনামুলের সাথে ৩৩ বলে ৫৮ রান যোগ করেছিলেন লিটন। এরপর আনামুল ও আফিফের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।  আনামুল দুইটি ছক্কায় ২৭ বলে ২৬ ও আফিফ দশ রান করেন। শেষ সাত ওভারে ৯৪ রানের প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। তখন জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নয়া অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। আস্কিং রান রেট ১৩ পার হয়ে যায়। এ অবস্থায় ১৪তম ওভারে ১২, ১৫তম ওভারে সোহানের দুইটি ছক্কায় ১৬ রান তুলে বাংলাদেশ। তবে ১৬তম ওভারে শান্তর বিদায়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওই ওভার থেকে মাত্র ছয় রান আসে। ২৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৭ রান করেন শান্ত। সাত নম্বরে নামা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন সোহান। ১৭তম ওভারে ১৪ ও ১৮তম ওভারে ১৪ রান তুলেন তারা। তাতে শেষ দুই ওভারে জয়ের সমীকরন ৩২ রানে নেমে আসে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বাঁ-হাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভার করা ১৯তম ওভার থেকে মাত্র চার রান পায় বাংলাদেশ। ওই ওভারের শেষ বলে ১৩ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক। শেষ ওভারে ২৮ রানের প্রয়োজনে প্রথম বল ডট হলেও পরের বলে লেগ-বাই থেকে চার ও তৃতীয় বলে ছক্কা পান সোহান। তবে শেষ তিন বল থেকে কোন রানই নিতে পারেন নি সোহান। ফলে ছয় উইকেটে ১৮৮ রান করে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ২৬ বলে একটি চার ও চারটি ছক্কায় অপরাজিত ৪২ রান করেন সোহান। জিম্বাবুয়ের লুক জঙ্গি ৩৪ রানে দুই উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন জিম্বাবুয়ের রাজা।  

রোববার (৩১ জুলাই) একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০।

সিএন/এমএ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন