শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভেটগ্রহণ মঙ্গলবার

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২

প্রিন্ট করুন

চলমান ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মঙ্গলবার ৷ এই নির্বাচন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষ, প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের জন্য সদস্য নির্বাচন করবেন ভোটাররা৷ এর মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন, অর্থাৎ ৪৩৫ জন সদস্য নির্বাচন করা হবে৷ আর সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির জন্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে৷

বাংলাদেশ সময় বিকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে ১২ ঘণ্টা পরে শেষ হবে৷ চূড়ান্ত ফল পেতে কয়েক দিন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে৷

বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে৷ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছে চলে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে৷ সেক্ষেত্রে বাইডেনের মেয়াদের শেষ দুই বছরে ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন ইস্যু কংগ্রেসে পাস করাতে সমস্যা হতে পারে৷ 

গত কয়েকমাসে প্রতিনিধি বাছাই, নির্বাচনি প্রচারণা এবং তহবিল সংগ্রহের নানা উদ্যোগ দেখা গেছে মার্কিনজুড়ে ৷ এবার মধ্যবর্তী নির্বাচন ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক করে দেবে৷ নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে নানা কিছু৷ চলুন দেখি৷

এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার আশা করছেন৷ অন্যদিকে, কংগ্রেসে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ডেমোক্রেটরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে৷ অর্থনীতির দুরবস্থা, অপরাধ, প্রেসিডেন্টের কারিশমা, গর্ভপাত আইনের মতো বিষয়াদি এই নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে৷

মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন বাড়বে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷ কিন্তু সেটার বিস্তৃতি কতটা হবে তা এক্ষুণি বলা মুশকিল৷ মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ায় ভোটারদের মধ্যে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা কাজ করছে৷ আর ইতিহাস বলছে ভোটাররা সাধারণত ক্ষমতাসীনদের উপরেই তাদের হতাশার দায় চাপায়৷

ডেমোক্রেটরা আশা করেছিলেন যে গর্ভপাতের অধিকার বাতিল সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা হারানোর ঐতিহাসিক ধারায় বিঘ্ন ঘটাবে বা ক্ষতি কমাবে৷ কিন্তু নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়েছে দলটির নেতাদের মধ্যে এই আশা ততটাই কমেছে বলে মনে হয়েছে৷ রিপাবলিকান দলে গর্ভপাতবিরোধী যারা আছেন তাদের ভোট কমতে পারে৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হতে পারে৷ এজন্য দলটির আরো পাঁচটি আসন প্রয়োজন৷ হয়ত এরচেয়ে বেশি আসনও পেয়ে যেতে পারে দলটি৷ আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্রেটদের কিছু এলাকায় বেশ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন রিপাবলিকানরা৷

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্রেটদের অবস্থা আরো নাজুক৷ রিপাবলিকানরা আরেকটি আসন পেলেই উচ্চকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে৷

২০২০ সালের নির্বাচনে ল্যাটিনোদের সমর্থন খুব একটা পায়নি ডেমোক্রেটরা৷ কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি বদলাবে এমন আশাও করা যাচ্ছে না৷ কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মেক্সিকো-মার্কিন সীমান্ত সমস্যার তেমন কোনো সমাধান দিতে পারেননি৷ অন্যদিকে, এই গোষ্ঠীর মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন বেড়ে চলেছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে৷

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান পার্টিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন৷ যদিও তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালটে নেই, তার সমর্থন পাওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন৷ এই প্রার্থীরা যদি ভালো না করেন তাহলে ২০২৪ সালে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের লড়াই করার সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে৷

মার্কিন এই মধ্যবর্তী নির্বাচন কার্যত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলগুলোর অবস্থান কী হতে যাচ্ছে তা ঠিক করে দেবে৷ রিপাবলিকানরা বড় জয় পেলে ট্রাম্পের আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের পথ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ডেমোক্রেটদের দুর্বল ফলাফল বাইডেনের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে টিকে থাকার লড়াই কঠিন করে দেবে৷

সোমবার শেষ মুহূর্তে ভোটারদের ধারে ধারে প্রচারণা চালিয়েছেন বাইডেন ও ট্রাম্প৷ বাইডেন এই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’বলে অভিহিত করেছেন৷ ওয়াশিংটন ডিসি থেকে একটু দূরে অবস্থিত বোয়ি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বক্তব্য দিতে গিয়ে বাইডেন বলেন, ‘‘আমরা হৃদয়ে অনুভব করছি যে আমাদের গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে আছে, আর আমরা এ-ও জানি যে, আপনাদের পক্ষে একে রক্ষা করার সময় এখনই৷”

এদিকে ওহাইও রাজ্যের এক সমাবেশে ট্রাম্প তার সমর্থকদের রিপাবলিকানদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান৷ এরপর তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে তিনি ‘একটি বড় ঘোষণা’ দিতে যাচ্ছেন৷ এর মাধ্যমে তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ১৫ নভেম্বর ঘোষণাটি আসতে পারে বলেও জানান ট্রাম্প৷

সোমবার সমাবেশ শেষে হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, তার বিশ্বাস ডেমোক্র্যাটরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে৷ আর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটা ‘কঠিন’ হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটনে তার জীবনটা ‘আরো কঠিন’ হয়ে উঠতে পারে৷ 

আইআই/সিএন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন