রহমত উল্ল্যাহ:
সাফল্য, গৌরব আর ঐতিহ্যের ৫৬ বছর পেরিয়ে ৫৭ বছরের পদার্পন করেছে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। অর্ধ শতকের বেশি বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন রয়েছে অসংখ্য। তবে অপ্রাপ্তির ঝুলিও কম নয়। ৫৬ বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো টিএসসি নির্মিত হয়নি। নিয়মিত সমাবর্তন তো দূরের কথা, গড়ে এক যুগে একটি সমাবর্তনও হয় না। চাকসুও অকার্যকর যুগের পর যুগ।
প্রতিষ্ঠার সময় এটি সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় বলা হলেও বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১১টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেলে আসন রয়েছে ৫ হাজার ৩০টি। যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৮ শতাংশ। তবে উদ্বোধন হলেও এখনো চালু হয়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে অতীশ দীপঙ্কর হলের। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শাটল ট্রেনে বাড়েনি কোন বগি। ১০ টিরও বেশি বিভাগে এখনো দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত সেশনজট আছে। প্রতিষ্ঠার এত বছরেও এখনো টিএসসি নির্মিত হয়নি। সংরক্ষিত আসন থাকার পরও দেড়যুগ ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। নিয়মিত তো দূরের কথা গড়ে এক যুগে একটি সমাবর্তন হয় না। চাকসু নির্বাচন বন্ধ প্রায় ৩০ বছর ধরে।
৫৭ বছরের প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজনিন বলেন, ৫৬ বছরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক কিছু পেয়েছি আবার অনেক কিছুই পাইনি। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে আমাদের যেন একটা টিএসসি নির্মাণ করা হয়। কারন টিএসসি ছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণতা পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের মঞ্চ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। নিয়মিত সমাবর্তন হচ্ছে না। এত বছর পরও আমাদের টিএসসি নেই। গবেষণাও তেমন বেশি হচ্ছে না। এটা মেনে নেওয়া যায়? আমরা নিয়মিত সমাবর্তন, চাকসু নির্বাচন চাই।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমরা সমাবর্তন নিয়ে কাজ করছি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের শুরুতে সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। টিএসসি নিয়েও কাজ করছি। এ সংক্রান্ত কিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সরকারি দিক নির্দেশনা পেলেই আমরা এটির কাজ শুরু করবো। আমরা শহরও ক্যম্পাস দুই স্থান টিএসসি করার জন্য আলোচনায় রেখেছি। শিক্ষার্থীরা যেখানে চায় সেখানেই হবে।
সিএন/এমটি



চলমান নিউইয়র্ক ফেসবুক পেজ লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন